০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম নিউজ এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ: প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে খামেনির বাসভবন লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, হামলায় খামেনির প্রাসাদটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ইরান সরকার বিষয়টি অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।

পারিবারিক ক্ষয়ক্ষতি: রয়টার্সের তথ্যমতে, এই হামলায় কেবল খামেনিই নন, নিহত হয়েছেন তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতাও। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ দাবি করেছে, খামেনির মরদেহের ছবি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে পৌঁছানো হয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া: ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইএনএন (IRINN) বর্তমানে কালো ব্যানার ও কোরআন তেলাওয়াত সম্প্রচার করছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খামেনির মৃত্যুকে ‘শাহাদাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে বলা হয়েছে, এই ঘটনা ‘অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক নতুন বিদ্রোহের’ সূচনা করবে।

বিশ্ব পরিস্থিতি: এর আগে বহুবার খামেনির মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও এবারই প্রথম ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো তা নিশ্চিত করল। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৩:৪৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
১৪১ Time View

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি

Update Time : ০৩:৪৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম নিউজ এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ: প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে খামেনির বাসভবন লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, হামলায় খামেনির প্রাসাদটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ইরান সরকার বিষয়টি অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।

পারিবারিক ক্ষয়ক্ষতি: রয়টার্সের তথ্যমতে, এই হামলায় কেবল খামেনিই নন, নিহত হয়েছেন তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতাও। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ দাবি করেছে, খামেনির মরদেহের ছবি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে পৌঁছানো হয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া: ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইএনএন (IRINN) বর্তমানে কালো ব্যানার ও কোরআন তেলাওয়াত সম্প্রচার করছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খামেনির মৃত্যুকে ‘শাহাদাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে বলা হয়েছে, এই ঘটনা ‘অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক নতুন বিদ্রোহের’ সূচনা করবে।

বিশ্ব পরিস্থিতি: এর আগে বহুবার খামেনির মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও এবারই প্রথম ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো তা নিশ্চিত করল। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।