খামেনি নিহতের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র, ইরানে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন
যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। হামলায় দেশটির কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাও প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
জানা গেছে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টিতে হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার তথ্যমতে, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ ইরানের একটি মেয়েদের বিদ্যালয়ে বিস্ফোরণে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
ঘটনার পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলে। তেল আবিবে কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।
ইরান আরও দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরও হামলার আওতায় এসেছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই ও দোহায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
খামেনির মৃত্যুর পর তেহরান অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি জানিয়েছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।
ইরানের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা পদ শূন্য হলে একটি অস্থায়ী পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণ করে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, অন্তর্বর্তী পরিষদে থাকবেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আলেম প্রতিনিধি। একই সময়ে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
এ ঘটনায় ইরাক তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। সরকারি বার্তা সংস্থা ইরাকি নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত বিবৃতিতে দেশটির মুখপাত্র বাসেম আল-আওয়াদি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।





















