খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করবে ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহতের ঘটনায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (১ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক আবেগঘন ভাষণে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
প্রতিশোধের অঙ্গীকার: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “সর্বোচ্চ নেতার ওপর এই বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ড কেবল ইরানের ওপর নয়, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের ওপর আঘাত। এই অপরাধের প্রতিশোধ নেওয়া এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য একটি বৈধ অধিকার এবং পবিত্র দায়িত্ব। ইরান তার কাছে থাকা সব ধরণের সামরিক ও কৌশলগত শক্তি দিয়ে এই আঘাতের জবাব দেবে।”
নেতৃত্ব ও মনোবল: বিবৃতি চলাকালীন প্রেসিডেন্টকে বেশ বিমর্ষ দেখা গেলেও তিনি জনগণকে ধৈর্য ও সাহসের আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, “শত্রুপক্ষ যেন মনে না করে যে নেতৃত্বশূন্যতায় ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই শাহাদাত আমাদের বিপ্লব এবং প্রতিরোধের শক্তিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জেরে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানজুড়ে একযোগে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় খামেনির বাসভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং তিনি প্রাণ হারান। খামেনির মৃত্যুতে ইরানে বর্তমানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি চলছে।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ: ইরানি প্রেসিডেন্টের এই ‘সর্বোচ্চ শক্তি’ নিয়োগের হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণার ফলে বিশ্ব রাজনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।





















