০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানকে খণ্ডিত করে তেল দখলই এই যুদ্ধের লক্ষ্য: বাঘাই

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জাতীয় ঐক্য ও কঠোর প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশের জনগণই—কোনো বিদেশি শক্তি নয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানকে বিভক্ত করে এর তেল সম্পদ দখল করাই এই যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য। খবর আল জাজিরা।

সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা শুরু করার সময় ইরান কূটনৈতিক আলোচনায় ব্যস্ত ছিল। তার ভাষ্য, “আমরা যখন সংলাপে ছিলাম, তখনই আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আলোচনার পথই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির জন্য বড় হুমকি।

বাঘাই আরও বলেন, এই সংঘাতের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তার অভিযোগ, শত্রুপক্ষ ইরানকে খণ্ডিত করে দেশের সম্পদ অবৈধভাবে দখল করতে চায় এবং এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে যদি কোনো দেশের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে তেহরান। তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপকে সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে ইরানি গোলাবর্ষণের খবরও নাকচ করেন বাঘাই। তার মতে, এসব ঘটনার পেছনে শত্রুপক্ষের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, যাতে ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের আলোচনা “সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক”। বাঘাইয়ের ভাষ্য, “এটি আমাদের পছন্দের যুদ্ধ নয়; এটি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাতৃভূমি রক্ষার জন্য ইরান লড়াই চালিয়ে যাবে।”

তার এই বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সামরিকের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নৈতিক দিক থেকেও প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০২:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
৭৯ Time View

ইরানকে খণ্ডিত করে তেল দখলই এই যুদ্ধের লক্ষ্য: বাঘাই

Update Time : ০২:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জাতীয় ঐক্য ও কঠোর প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশের জনগণই—কোনো বিদেশি শক্তি নয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানকে বিভক্ত করে এর তেল সম্পদ দখল করাই এই যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য। খবর আল জাজিরা।

সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা শুরু করার সময় ইরান কূটনৈতিক আলোচনায় ব্যস্ত ছিল। তার ভাষ্য, “আমরা যখন সংলাপে ছিলাম, তখনই আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আলোচনার পথই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির জন্য বড় হুমকি।

বাঘাই আরও বলেন, এই সংঘাতের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তার অভিযোগ, শত্রুপক্ষ ইরানকে খণ্ডিত করে দেশের সম্পদ অবৈধভাবে দখল করতে চায় এবং এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে যদি কোনো দেশের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে তেহরান। তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপকে সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতা হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে ইরানি গোলাবর্ষণের খবরও নাকচ করেন বাঘাই। তার মতে, এসব ঘটনার পেছনে শত্রুপক্ষের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, যাতে ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের আলোচনা “সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক”। বাঘাইয়ের ভাষ্য, “এটি আমাদের পছন্দের যুদ্ধ নয়; এটি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাতৃভূমি রক্ষার জন্য ইরান লড়াই চালিয়ে যাবে।”

তার এই বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সামরিকের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নৈতিক দিক থেকেও প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।