মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম বাড়ছে, ১৫০ ডলার ছাড়ানোর আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং সরবরাহ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বৈশ্বিক অর্থনীতিবিদরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এর প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ওপর।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের এই অস্বাভাবিক উত্থানকে ‘নাটকীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রেডিং ডট কম অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার ম্যাকগুয়ার। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবারও তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ ডলারের মধ্যে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা বেড়ে ৯০ ডলার হয় এবং পরে এশীয় বাজারে লেনদেনের এক পর্যায়ে ১১৬ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
ম্যাকগুয়ারের মতে, যদি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে তেল ও গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দেয়, তাহলে তেলের দাম সহজেই ১৪০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
তবে কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনাও রয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, জি-৭ দেশের অর্থমন্ত্রীরা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মাধ্যমে জরুরি তেল মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা করছেন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বাজারের চাপ কিছুটা কমতে পারে।
যদিও পরে তেলের দাম কিছুটা কমে ১০৬ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে, তবুও প্রতি ঘণ্টায় বড় ধরনের ওঠানামাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্থিরতা কয়েক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।
এদিকে বাজারের এই অস্থিরতার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।





















