ইরানের মিসাইল বৃষ্টির সামনে দিশেহারা যুক্তরাষ্ট্র! ফুরিয়ে যাচ্ছে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১১ মার্চ ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংঘাতের মাত্র ১২ দিন পার হতে না হতেই মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংকটের মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা। ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে গিয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটের ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক মিসাইলের ভাণ্ডার প্রায় শূন্য হওয়ার পথে।
ইন্টারসেপ্টর সংকট ও ‘সিলেক্টিভ’ প্রতিরক্ষা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন খাদের কিনারে। ইন্টারসেপ্টরের তীব্র সংকটের কারণে এখন কোন মিসাইলটি ধ্বংস করা জরুরি আর কোনটি উপেক্ষা করা যেতে পারে—তা নির্ধারণ করতেই হিমশিম খাচ্ছে প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো। এই ‘বাছাইকৃত’ প্রতিরক্ষা পদ্ধতি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ‘থাড’ সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি সামাল দিতে পূর্ব এশিয়ায় দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা বলয় শিথিল করার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সিওংজু কাউন্টি থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘থাড’ (THAAD) মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করছে পেন্টাগন। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে রক্ষা করতেই এই জরুরি পদক্ষেপ।
পেন্টাগনের দাবি বনাম বাস্তব চিত্র মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেথ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোলাবারুদের মজুত পর্যাপ্ত এবং মিত্রদের অস্ত্রভাণ্ডার পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তাঁর এই দাবির ঠিক বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে ‘দ্য আমেরিকান কনজারভেটিভ’। সাময়িকীটির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের যে তীব্রতা, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অভূতপূর্ব গতিতে কমে যাচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ বা একসাথে ডজন ডজন সস্তা ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখছে। একটি অত্যন্ত দামি ইন্টারসেপ্টর দিয়ে সস্তা ড্রোন ভূপাতিত করা ওয়াশিংটনের জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত—উভয় দিক থেকেই ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই উত্তেজনা আর কয়েক সপ্তাহ অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে, যার ফলে তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরাসরি হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।





















