০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধ: আরও সেনা পাঠানোর ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অভিযান আরও জোরদার করতে সেখানে হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির বরাতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধের পরবর্তী ধাপের জন্য বাড়তি কৌশলগত বিকল্প দেবে। তবে এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি বিদেশি সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি তিনি আগেই দিয়েছিলেন।

বর্তমানে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার একটি বড় লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। যদিও এই মিশন মূলত বিমান ও নৌবাহিনীর মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা, তবে প্রয়োজন হলে ইরানের উপকূলে স্থলসেনা নামানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের প্রধান কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্যে সেখানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ওই দ্বীপে আঘাত হানতে সক্ষম। উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৪ মার্চ) দ্বীপটিতে মার্কিন হামলার কথা জানা গেলেও ইরান দাবি করেছে তাদের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে।

সেনা মোতায়েনের আলোচনা চলাকালে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিরাপদ করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কাজ অত্যন্ত জটিল এবং বিশেষ বাহিনীর জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন। এই অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস, তাদের নৌবাহিনীকে দুর্বল করা এবং ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী ইরানজুড়ে প্রায় ৭,৮০০টি হামলা চালানো হয়েছে এবং ১২০টির বেশি জাহাজ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০,০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

তবে সরাসরি স্থলবাহিনী ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ মার্কিন জনমতের একটি বড় অংশ নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে।

সূত্র: আলজাজিরা। (সূত্র: আলজাজিরা।)

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

Update Time : ০৯:২৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
২৩ Time View

ইরান যুদ্ধ: আরও সেনা পাঠানোর ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ০৯:২৬:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অভিযান আরও জোরদার করতে সেখানে হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির বরাতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধের পরবর্তী ধাপের জন্য বাড়তি কৌশলগত বিকল্প দেবে। তবে এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি বিদেশি সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি তিনি আগেই দিয়েছিলেন।

বর্তমানে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার একটি বড় লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। যদিও এই মিশন মূলত বিমান ও নৌবাহিনীর মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা, তবে প্রয়োজন হলে ইরানের উপকূলে স্থলসেনা নামানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের প্রধান কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্যে সেখানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ওই দ্বীপে আঘাত হানতে সক্ষম। উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৪ মার্চ) দ্বীপটিতে মার্কিন হামলার কথা জানা গেলেও ইরান দাবি করেছে তাদের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে।

সেনা মোতায়েনের আলোচনা চলাকালে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিরাপদ করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কাজ অত্যন্ত জটিল এবং বিশেষ বাহিনীর জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন। এই অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস, তাদের নৌবাহিনীকে দুর্বল করা এবং ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী ইরানজুড়ে প্রায় ৭,৮০০টি হামলা চালানো হয়েছে এবং ১২০টির বেশি জাহাজ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০,০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

তবে সরাসরি স্থলবাহিনী ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ মার্কিন জনমতের একটি বড় অংশ নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে।

সূত্র: আলজাজিরা। (সূত্র: আলজাজিরা।)