তেলের দাম কি ২০০ ডলার ছুঁতে যাচ্ছে?
ইরানকে ঘিরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্লেষকরা যেখানে দাম ১০০ ডলার ছাড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, এখন তারা প্রতি ব্যারেল ১৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথা বলছেন।
চলতি মাসের ৯ মার্চ ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলারে ওঠে এবং ১৩ মার্চের পর থেকে তা ১০০ ডলারের নিচে নামেনি। বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরাইলি হামলা এবং এর জবাবে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের পাল্টা আঘাত তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করেছে।
বর্তমানে ওমান ও দুবাইয়ের মতো মধ্যপ্রাচ্যের বেঞ্চমার্ক তেল ইতোমধ্যে ১৫০ ডলার অতিক্রম করেছে, যা ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২০০ ডলারে যাওয়ার পথ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি। বিশ্বে সরবরাহ হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান প্রণালিটি বন্ধের ঘোষণা দিলে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পথ সচল রাখতে আন্তর্জাতিক নৌবহর গঠনের চেষ্টা করলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে। আইইএ-এর উদ্যোগে বিভিন্ন দেশ জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেলের ঘাটতি রয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে, তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার সময় তেলের দাম সর্বোচ্চ ১৪৭.৫০ ডলারে উঠেছিল, যা বর্তমান মূল্যমান অনুযায়ী প্রায় ২২৪ ডলারের সমান।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০০ ডলারের তেল বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে এবং জ্বালানির পাশাপাশি সার ও প্লাস্টিকসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহেও প্রভাব ফেলবে। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, দাম বাড়লে চাহিদা কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার মতো দেশগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

























