০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের হামলায় ঘাঁটি ছাড়ছে মার্কিন সেনারা

ছবি সংগৃহীত

বেঙ্গল আই টিভি অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। প্রাণনাশের ঝুঁকি এড়াতে অনেক মার্কিন সেনা নিজ নিজ ঘাঁটি ছেড়ে নিকটবর্তী হোটেল ও অফিস স্পেসে আশ্রয় নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এতে সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

ওপেন-সোর্স বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মোট ১০৪টি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, মার্কিন স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলো প্রায় ১৪ দিন বিলম্বে ছবি প্রকাশ করায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত অন্তত ১৩টি মার্কিন ঘাঁটির অনেকগুলোই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটি, যেখানে ২৩টি হামলার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্প আরিফজান ও ক্যাম্প বুহরিংয়েও যথাক্রমে ১৭টি ও ৬টি হামলা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, এসব স্থাপনায় হ্যাঙ্গার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট সরঞ্জাম এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হিনজের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৭ বার, বাহরাইনে ১৬ বার, ইরাকে ৭ বার, কাতারে ৬ বার, সৌদি আরবে ৬ বার এবং জর্ডানে ২ বার হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটির একটি বড় গুদাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কাতারের আল উদেদ বিমান ঘাঁটিতে একাধিক অ্যান্টেনা ও স্যাটেলাইট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা ঘাঁটিতে সেনাদের আবাসিক ভবনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

ইরানি সূত্রের দাবি, এসব হামলায় তাদের উন্নত ‘খোররামশাহর-৪’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ সংরক্ষিত অন্তত চারটি স্থাপনাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক জরিপ অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জর্ডানে অবস্থিত একটি থাড রাডারসহ বিভিন্ন অবকাঠামোও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:৪৪:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
১০৫৯ Time View

ইরানের হামলায় ঘাঁটি ছাড়ছে মার্কিন সেনারা

Update Time : ১১:৪৪:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

বেঙ্গল আই টিভি অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। প্রাণনাশের ঝুঁকি এড়াতে অনেক মার্কিন সেনা নিজ নিজ ঘাঁটি ছেড়ে নিকটবর্তী হোটেল ও অফিস স্পেসে আশ্রয় নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এতে সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

ওপেন-সোর্স বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনজের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মোট ১০৪টি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, মার্কিন স্যাটেলাইট কোম্পানিগুলো প্রায় ১৪ দিন বিলম্বে ছবি প্রকাশ করায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত অন্তত ১৩টি মার্কিন ঘাঁটির অনেকগুলোই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটি, যেখানে ২৩টি হামলার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্প আরিফজান ও ক্যাম্প বুহরিংয়েও যথাক্রমে ১৭টি ও ৬টি হামলা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, এসব স্থাপনায় হ্যাঙ্গার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট সরঞ্জাম এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হিনজের বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৭ বার, বাহরাইনে ১৬ বার, ইরাকে ৭ বার, কাতারে ৬ বার, সৌদি আরবে ৬ বার এবং জর্ডানে ২ বার হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটির একটি বড় গুদাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কাতারের আল উদেদ বিমান ঘাঁটিতে একাধিক অ্যান্টেনা ও স্যাটেলাইট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা ঘাঁটিতে সেনাদের আবাসিক ভবনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

ইরানি সূত্রের দাবি, এসব হামলায় তাদের উন্নত ‘খোররামশাহর-৪’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ সংরক্ষিত অন্তত চারটি স্থাপনাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক জরিপ অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জর্ডানে অবস্থিত একটি থাড রাডারসহ বিভিন্ন অবকাঠামোও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।