০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে ‘পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি’ নিচ্ছে জাতিসংঘ! বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে কর্মকর্তার পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সংবাদ

আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘ ইরানে ‘সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের’ একটি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন সংস্থাটির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা। মোহাম্মদ সাফা নামের ওই কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট ও পদত্যাগপত্র সংযুক্ত করে এই ঘোষণা দেন।

মোহাম্মদ সাফার পরিচয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহাম্মদ সাফা জাতিসংঘে প্যাট্রিওটিক ভিশন (পিভিএ)-এর প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পিভিএ এমন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে বিশেষ পরামর্শক মর্যাদা ভোগ করে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, সাফা ২০১৩ সাল থেকে পিভিএ-এর নির্বাহী পরিচালক ছিলেন এবং ২০১৬ সালে তাকে জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়।

পদত্যাগের কারণ ও বিস্ফোরক দাবি এক্সে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সাফা দাবি করেন, জাতিসংঘের কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা একটি প্রভাবশালী লবির হয়ে কাজ করছেন। দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর তিনি পদত্যাগের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পোস্টে তেহরানের একটি ছবি সংযুক্ত করে তিনি লেখেন, “আমার মনে হয় মানুষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছে না, কারণ জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যারা যুদ্ধ চায়, তারা যেন বোঝে এটি (তেহরান) কোনো জনবিরল মরুভূমি নয়। এখানে পরিবার, শিশু, পোষা প্রাণী এবং স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা সাধারণ মানুষ আছে।”

তেহরানকে প্রায় এক কোটি মানুষের শহর উল্লেখ করে তিনি পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন—ওয়াশিংটন, বার্লিন, প্যারিস বা লন্ডনের মতো শহরে পারমাণবিক হামলার কথা কল্পনা করতে পারেন কি?

‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ ঠেকানোর ডাক সাফা তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করে বলেন, “এই তথ্য ফাঁস করার জন্য আমি আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ছাড়ছি। মানবতার বিরুদ্ধে এই অপরাধের অংশ না হতে এবং সম্ভাব্য ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ ঠেকাতে আমি দায়িত্ব ত্যাগ করেছি।”

তিনি বিশ্ববাসীকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। এখনই পদক্ষেপ নিন। এই বার্তা ছড়িয়ে দিন। কেবল জনগণই এটি থামাতে পারে।”

দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও প্রাণনাশের হুমকি সাফা জানান, তিনি মূলত ২০২৩ সালেই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু গত তিন বছর ধরে ধৈর্য ধরে ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনতে চরম অনিচ্ছুক। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ভিন্নমত প্রকাশ করায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

তাঁর অভিযোগ, এই কঠিন সময়ে জাতিসংঘ তাঁকে পরিত্যাগ করেছে এবং তিনি ও তাঁর পরিবার লাগাতার হত্যার হুমকি পেয়েছেন।

তবে সাফার এই গুরুতর অভিযোগ ও পদত্যাগের বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:২১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
৬৮ Time View

ইরানে ‘পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি’ নিচ্ছে জাতিসংঘ! বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে কর্মকর্তার পদত্যাগ

Update Time : ১১:২১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সংবাদ

আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘ ইরানে ‘সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের’ একটি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন সংস্থাটির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা। মোহাম্মদ সাফা নামের ওই কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট ও পদত্যাগপত্র সংযুক্ত করে এই ঘোষণা দেন।

মোহাম্মদ সাফার পরিচয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহাম্মদ সাফা জাতিসংঘে প্যাট্রিওটিক ভিশন (পিভিএ)-এর প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পিভিএ এমন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে বিশেষ পরামর্শক মর্যাদা ভোগ করে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, সাফা ২০১৩ সাল থেকে পিভিএ-এর নির্বাহী পরিচালক ছিলেন এবং ২০১৬ সালে তাকে জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়।

পদত্যাগের কারণ ও বিস্ফোরক দাবি এক্সে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে সাফা দাবি করেন, জাতিসংঘের কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা একটি প্রভাবশালী লবির হয়ে কাজ করছেন। দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর তিনি পদত্যাগের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পোস্টে তেহরানের একটি ছবি সংযুক্ত করে তিনি লেখেন, “আমার মনে হয় মানুষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছে না, কারণ জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যারা যুদ্ধ চায়, তারা যেন বোঝে এটি (তেহরান) কোনো জনবিরল মরুভূমি নয়। এখানে পরিবার, শিশু, পোষা প্রাণী এবং স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা সাধারণ মানুষ আছে।”

তেহরানকে প্রায় এক কোটি মানুষের শহর উল্লেখ করে তিনি পাঠকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন—ওয়াশিংটন, বার্লিন, প্যারিস বা লন্ডনের মতো শহরে পারমাণবিক হামলার কথা কল্পনা করতে পারেন কি?

‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ ঠেকানোর ডাক সাফা তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করে বলেন, “এই তথ্য ফাঁস করার জন্য আমি আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ছাড়ছি। মানবতার বিরুদ্ধে এই অপরাধের অংশ না হতে এবং সম্ভাব্য ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ ঠেকাতে আমি দায়িত্ব ত্যাগ করেছি।”

তিনি বিশ্ববাসীকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। এখনই পদক্ষেপ নিন। এই বার্তা ছড়িয়ে দিন। কেবল জনগণই এটি থামাতে পারে।”

দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও প্রাণনাশের হুমকি সাফা জানান, তিনি মূলত ২০২৩ সালেই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু গত তিন বছর ধরে ধৈর্য ধরে ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনতে চরম অনিচ্ছুক। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ভিন্নমত প্রকাশ করায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

তাঁর অভিযোগ, এই কঠিন সময়ে জাতিসংঘ তাঁকে পরিত্যাগ করেছে এবং তিনি ও তাঁর পরিবার লাগাতার হত্যার হুমকি পেয়েছেন।

তবে সাফার এই গুরুতর অভিযোগ ও পদত্যাগের বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।