০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

ছবিঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে তেলের দামে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাতে দুই দেশ ১৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এই ঘোষণার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রণালিটি ব্যবহার করতে হলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অনুমোদন নিতে হবে।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এই প্রণালি খোলা রাখার ঘোষণা বাজারে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করে।

এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে দ্রুত পতন দেখা যায়। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে নেমে এসেছে ৯৪ দশমিক ৪৩ ডলারে, যা আগের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১৪ ডলার পর্যন্ত মূল্য কমেছে।

একইভাবে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১৬ ডলার কমে যায়, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ১৪ শতাংশ পতনের সমান।

জ্বালানি বাজার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার প্রাথমিক ইঙ্গিতই বাজারে এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মূল কারণ। বৈশ্বিক তেল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকে, তবে ভবিষ্যতে তেলের বাজার আরও স্থিতিশীল হতে পারে।

তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি, এবং যেকোনো সময় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য জ্বালানি তেলের মূল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই এই ধরনের বড় পরিবর্তন শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য, পরিবহন খরচ এবং সাধারণ ভোক্তা পর্যায়েও প্রভাব ফেলতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৬:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
৩১ Time View

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

Update Time : ০৬:৩৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে তেলের দামে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাতে দুই দেশ ১৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এই ঘোষণার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রণালিটি ব্যবহার করতে হলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অনুমোদন নিতে হবে।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এই প্রণালি খোলা রাখার ঘোষণা বাজারে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করে।

এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে দ্রুত পতন দেখা যায়। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে নেমে এসেছে ৯৪ দশমিক ৪৩ ডলারে, যা আগের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১৪ ডলার পর্যন্ত মূল্য কমেছে।

একইভাবে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১৬ ডলার কমে যায়, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ১৪ শতাংশ পতনের সমান।

জ্বালানি বাজার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার প্রাথমিক ইঙ্গিতই বাজারে এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মূল কারণ। বৈশ্বিক তেল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকে, তবে ভবিষ্যতে তেলের বাজার আরও স্থিতিশীল হতে পারে।

তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি, এবং যেকোনো সময় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য জ্বালানি তেলের মূল্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই এই ধরনের বড় পরিবর্তন শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য, পরিবহন খরচ এবং সাধারণ ভোক্তা পর্যায়েও প্রভাব ফেলতে পারে।