০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিজেল-পেট্রোলের নতুন দাম নির্ধারণ

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম ৪৩ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৪৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, পেট্রোলের দাম ৪২.৭ শতাংশ বাড়িয়ে লিটার প্রতি ৪৫৮.৪০ পাকিস্তানি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে ডিজেলের দাম ৫৪.৯ শতাংশ বাড়িয়ে লিটার প্রতি ৫২০.৩৫ রুপি করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকার বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সীমিত বাজেটের মধ্যেও জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে চলমান যুদ্ধের শেষ কবে হবে তা অনিশ্চিত থাকায় দাম সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প ছিল না।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়ে থাকে, যার বড় অংশই এশিয়ার দেশগুলোতে যায়।

জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল পাকিস্তান এর আগে ৬ মার্চও প্রায় ২০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করেছিল। নতুন পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিসে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু, স্কুলের ছুটি বাড়ানো এবং কিছু শ্রেণির ক্লাস অনলাইনে নেওয়া।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান একটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ এবং প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এ অবস্থায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে, শুধু জ্বালানির দামই নয়, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতাও দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে খাদ্য ও সারসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়তে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৯:০৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
৯৫ Time View

ডিজেল-পেট্রোলের নতুন দাম নির্ধারণ

Update Time : ০৯:০৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম ৪৩ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৪৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, পেট্রোলের দাম ৪২.৭ শতাংশ বাড়িয়ে লিটার প্রতি ৪৫৮.৪০ পাকিস্তানি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে ডিজেলের দাম ৫৪.৯ শতাংশ বাড়িয়ে লিটার প্রতি ৫২০.৩৫ রুপি করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকার বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সীমিত বাজেটের মধ্যেও জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে চলমান যুদ্ধের শেষ কবে হবে তা অনিশ্চিত থাকায় দাম সমন্বয় করা ছাড়া বিকল্প ছিল না।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়ে থাকে, যার বড় অংশই এশিয়ার দেশগুলোতে যায়।

জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল পাকিস্তান এর আগে ৬ মার্চও প্রায় ২০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করেছিল। নতুন পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিসে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু, স্কুলের ছুটি বাড়ানো এবং কিছু শ্রেণির ক্লাস অনলাইনে নেওয়া।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান একটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ এবং প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এ অবস্থায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে, শুধু জ্বালানির দামই নয়, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতাও দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে খাদ্য ও সারসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়তে পারে।