হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে রোবট মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক রাখতে নতুন কৌশল নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করতে তারা মনুষ্যবিহীন সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
শনিবার ইরান আবারও প্রণালিটি বন্ধ ঘোষণা করে এবং মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে দুটি বেসামরিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনায় আন্তর্জাতিক নৌপথে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে তাদের উপকূলঘেঁষা ধীরগতির বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য করছে এবং প্রধান জলপথে মাইন থাকার সতর্কতা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইন আতঙ্কই এখন জাহাজ চলাচলের সবচেয়ে বড় বাধা। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনী পুরনো মাইন অপসারণকারী জাহাজের পরিবর্তে আধুনিক সামুদ্রিক ড্রোন ও সাবমেরিন ব্যবহার করছে। র্যান্ড কর্পোরেশন-এর জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী স্কট স্যাভিটজ বলেন, মাইনপূর্ণ এলাকায় রোবট ব্যবহার করা বেশি কার্যকর, কারণ এতে নাবিকদের জীবনের ঝুঁকি কমে এবং ড্রোন হারিয়ে গেলেও সহজে প্রতিস্থাপন করা যায়।
প্রযুক্তিগতভাবে, আরটিএক্স-এর তৈরি ড্রোন এবং জেনারেল ডাইনামিকস-এর এমকে১৮ মড ২ ‘কিংফিশ’ ড্রোন সমুদ্রের তলদেশে কয়েকশ ফুট এলাকা জুড়ে মাইন শনাক্ত করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সাবেক কমান্ডার কেভিন ডনিগান জানান, এসব ডুবো ড্রোন ব্যবহার করে কয়েক সপ্তাহের কাজ কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব।
এদিকে, শুক্রবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান সব মাইন সরিয়ে ফেলেছে। তবে পরদিন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করায় সেই দাবি ভেস্তে যায়।
আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা বিমকো-এর নিরাপত্তা কর্মকর্তা জ্যাকব লারসেন জানিয়েছেন, মাইন থাকার ঝুঁকি এখনো রয়েছে, তাই জাহাজগুলোকে আপাতত এই এলাকা এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
এছাড়া লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিলের পর থেকে প্রণালি অতিক্রম করা বেশিরভাগ জাহাজই ইরানের নির্ধারিত বিকল্প পথ ব্যবহার করছে। হাডসন ইনস্টিটিউট-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো ব্রায়ান ক্লার্ক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ড্রোনের মাধ্যমে মাইন শনাক্ত করে নিজস্ব জাহাজ চলাচল শুরু করতে পারে, তবে ইরানকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে।





















