০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ঘিরে আবারও বিভ্রান্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে আবারও পরস্পরবিরোধী তথ্য সামনে এসেছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

সিএনএন’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার সরাসরি শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে শনিবার (২৫ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাচ্ছেন। তবে একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে অবস্থান করলেও তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসবেন না বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম। একই ধরনের তথ্য দিয়েছে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ঘনিষ্ঠ নুরনিউজও।

আলোচনার প্রকৃত অবস্থা নিয়ে এমন বিভ্রান্তি নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে অস্বীকৃতি থাকলেও ভিন্ন কোনো চ্যানেলে আলোচনা চলতে পারে।

গত মার্চের শেষ দিকেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে “গঠনমূলক আলোচনা” হয়েছে। কিন্তু ইরান তা সরাসরি অস্বীকার করে। একই সময়ে একটি ইরানি সূত্র জানায়, কিছু পর্যায়ের যোগাযোগ হয়েছিল এবং তারা সম্ভাব্য প্রস্তাব শুনতে আগ্রহী।

এরপর এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। পরে আবার নতুন দফা বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য সংলাপ নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

Update Time : ১২:৫১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
২৬ Time View

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ঘিরে আবারও বিভ্রান্তি

Update Time : ১২:৫১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে আবারও পরস্পরবিরোধী তথ্য সামনে এসেছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

সিএনএন’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার সরাসরি শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে শনিবার (২৫ এপ্রিল) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাচ্ছেন। তবে একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে অবস্থান করলেও তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসবেন না বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম। একই ধরনের তথ্য দিয়েছে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ঘনিষ্ঠ নুরনিউজও।

আলোচনার প্রকৃত অবস্থা নিয়ে এমন বিভ্রান্তি নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রকাশ্যে অস্বীকৃতি থাকলেও ভিন্ন কোনো চ্যানেলে আলোচনা চলতে পারে।

গত মার্চের শেষ দিকেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে “গঠনমূলক আলোচনা” হয়েছে। কিন্তু ইরান তা সরাসরি অস্বীকার করে। একই সময়ে একটি ইরানি সূত্র জানায়, কিছু পর্যায়ের যোগাযোগ হয়েছিল এবং তারা সম্ভাব্য প্রস্তাব শুনতে আগ্রহী।

এরপর এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। পরে আবার নতুন দফা বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য সংলাপ নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।