০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ ভারতের: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন

বেঙ্গল আই নিউজ ডেস্ক­

ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করেন। ছবি: এক্স

বিগত কয়েক মাসের অস্থিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে নতুন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।  দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস -এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশই ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দিকে এগোচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা চালু করেছে, আর ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে পুরো কার্যক্রম স্বাভাবিক করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে গত ৭–৮ এপ্রিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতের সফরে গিয়ে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের সব ভিসা কেন্দ্র—নয়াদিল্লির হাইকমিশনসহ কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার অফিস—সম্পূর্ণভাবে চালু রয়েছে। এর ভিত্তিতে ঢাকা পারস্পরিকতা বজায় রেখে দিল্লিকেও একই পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে কিছু ভিসা কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেগুলো আবার চালু করা হয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ফেব্রুয়ারিতে ওম বিড়লা-র নেতৃত্বে একটি ভারতীয় প্রতিনিধিদল ঢাকায় সফর করে। সেই দলে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি-ও ছিলেন। এই সফর দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি সংযোগসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করেছে, যা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আরেকটি উদাহরণ।

ভারতের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে গত বছর ভিসা সেবা সীমিত করা হলেও তা কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে চিকিৎসা ও জরুরি পারিবারিক ভিসা সবসময় অগ্রাধিকার পেয়েছে। বর্তমানে মোট ভিসা কার্যক্রমের প্রায় ১৫–২০ শতাংশ চালু রয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হচ্ছে।

নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর ভিসা সেবা দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ ফেব্রুয়ারির পর দুই মাসে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ১৩ হাজারের বেশি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক ভ্রমণসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের মোট বিদেশি পর্যটকের বড় একটি অংশ বাংলাদেশ থেকে যায়। ২০২৩ সালে প্রায় ২১ লাখ ২০ হাজার বাংলাদেশি ভারত ভ্রমণ করলেও ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৫০ হাজারে। আর ২০২৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভিসা সীমাবদ্ধতার কারণে এই সংখ্যা আরও কমে ৪ লাখ ৭০ হাজারে নেমে আসে।

সার্বিকভাবে, দুই দেশের উদ্যোগে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে কেবল ভ্রমণ নয়, বরং বাণিজ্য, চিকিৎসা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগও নতুন গতি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৮:৫১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
১২৮ Time View

ঢাকায় ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ ভারতের: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন

Update Time : ০৮:৫১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

বিগত কয়েক মাসের অস্থিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে নতুন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।  দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস -এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশই ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দিকে এগোচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা চালু করেছে, আর ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে পুরো কার্যক্রম স্বাভাবিক করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে গত ৭–৮ এপ্রিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারতের সফরে গিয়ে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের সব ভিসা কেন্দ্র—নয়াদিল্লির হাইকমিশনসহ কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার অফিস—সম্পূর্ণভাবে চালু রয়েছে। এর ভিত্তিতে ঢাকা পারস্পরিকতা বজায় রেখে দিল্লিকেও একই পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে কিছু ভিসা কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেগুলো আবার চালু করা হয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ফেব্রুয়ারিতে ওম বিড়লা-র নেতৃত্বে একটি ভারতীয় প্রতিনিধিদল ঢাকায় সফর করে। সেই দলে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি-ও ছিলেন। এই সফর দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি সংযোগসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করেছে, যা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আরেকটি উদাহরণ।

ভারতের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে গত বছর ভিসা সেবা সীমিত করা হলেও তা কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে চিকিৎসা ও জরুরি পারিবারিক ভিসা সবসময় অগ্রাধিকার পেয়েছে। বর্তমানে মোট ভিসা কার্যক্রমের প্রায় ১৫–২০ শতাংশ চালু রয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হচ্ছে।

নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর ভিসা সেবা দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ ফেব্রুয়ারির পর দুই মাসে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ১৩ হাজারের বেশি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক ভ্রমণসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের মোট বিদেশি পর্যটকের বড় একটি অংশ বাংলাদেশ থেকে যায়। ২০২৩ সালে প্রায় ২১ লাখ ২০ হাজার বাংলাদেশি ভারত ভ্রমণ করলেও ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৫০ হাজারে। আর ২০২৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভিসা সীমাবদ্ধতার কারণে এই সংখ্যা আরও কমে ৪ লাখ ৭০ হাজারে নেমে আসে।

সার্বিকভাবে, দুই দেশের উদ্যোগে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে কেবল ভ্রমণ নয়, বরং বাণিজ্য, চিকিৎসা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগও নতুন গতি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।