০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে ইরানে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে নতুন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু করার কথা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিসি নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা পূর্ববর্তী প্রচারাভিযানের নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিবর্তন করে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ নিয়ে আলোচনা করছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি বড় আকারের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে নতুন এই অভিযান শুরু হতে পারে।

এনবিসি নিউজ জানায়, প্রশাসনের ভেতরে এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবারও শুরু হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন নতুন অভিযানের নাম ব্যবহার করলে হোয়াইট হাউস দাবি করতে পারবে যে এটি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’-এর আওতায় একটি আলাদা সামরিক অভিযান। ওই আইনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কতদিন সামরিক অভিযান চালাতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান গত মাসে শত্রুতা বন্ধে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা নতুন আলোচনায় অংশ নেবে না।

ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, বিশেষ করে লেবাননে সংঘাত বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।

এর আগে ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

যুক্তরাষ্ট্র আগে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যাকে তেহরান একতরফা বলে সমালোচনা করে। পরে ইরানের পাল্টা প্রস্তাবও ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়।

সূত্র: আনাদোলু

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

Update Time : ১২:৩৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
২৭ Time View

যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে ইরানে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

Update Time : ১২:৩৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

ইরানের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে নতুন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু করার কথা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিসি নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা পূর্ববর্তী প্রচারাভিযানের নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিবর্তন করে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ নিয়ে আলোচনা করছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি বড় আকারের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে নতুন এই অভিযান শুরু হতে পারে।

এনবিসি নিউজ জানায়, প্রশাসনের ভেতরে এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবারও শুরু হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন নতুন অভিযানের নাম ব্যবহার করলে হোয়াইট হাউস দাবি করতে পারবে যে এটি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’-এর আওতায় একটি আলাদা সামরিক অভিযান। ওই আইনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কতদিন সামরিক অভিযান চালাতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান গত মাসে শত্রুতা বন্ধে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা নতুন আলোচনায় অংশ নেবে না।

ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, বিশেষ করে লেবাননে সংঘাত বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।

এর আগে ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

যুক্তরাষ্ট্র আগে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যাকে তেহরান একতরফা বলে সমালোচনা করে। পরে ইরানের পাল্টা প্রস্তাবও ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়।

সূত্র: আনাদোলু