মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা: চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ বন্ধের যে আশা জেগে উঠেছিল, মাত্র তিন দিনের মাথাতেই তা ফিকে হতে শুরু করেছে। আবারও নতুন করে জেগে উঠেছে তীব্র অস্থিরতার শঙ্কা।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ ও নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি।
যে কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা
শনিবার (২০ জুন) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান যৌথ অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স’ এক বিবৃতির মাধ্যমে এই কড়া ঘোষণা দেয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে তেহরান।
বিবৃতিতে প্রণালী বন্ধের প্রধান কারণ হিসেবে দুটি বিষয় উল্লেখ করা হয়:
- যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি লঙ্ঘন: তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা স্মারকের (MoU) প্রথম ধারা যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেছে ইরান।
- ইসরায়েলি আগ্রাসন: দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক কর্মকাণ্ডকেও তারা স্পষ্টত যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি: বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি নতুন করে কোনো আগ্রাসনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ প্রভাবের শঙ্কা
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। আরব উপদ্বীপ এবং ইরানের মধ্যবর্তী সরু এই জলপথটির ওপর নির্ভর করে পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজার।
একনজরে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব:
| বিবরণ | পরিসংখ্যান |
| বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন | বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ |
| দৈনিক তেল ও পণ্য পরিবহন | প্রায় ২ কোটি ব্যারেল (অশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি) |
এই জলপথে জাহাজ চলাচল স্থগিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইরান প্রণালীটি আবারও বন্ধ ঘোষণা করায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, ইরানের এই আকস্মিক ও কঠোর ঘোষণার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।





















