মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর তৃণমূলের প্রধান নন, প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন থেকে আর নিজেকে দলের শীর্ষ পদাধিকারী বা প্রধান হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না বলে নির্দেশ দিয়েছেন আলিপুরের আদালত। একই সঙ্গে তিনি দলের কোনো প্রশাসনিক কাজ, ব্যাংক হিসাব বা সম্পত্তি পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক এক নেত্রীর দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই চাঞ্চল্যকর নির্দেশ দিয়েছেন।
একনজরে আলিপুর আদালতের নির্দেশের সারসংক্ষেপ:
| বিবরণ | তথ্য |
| আদালত | আলিপুর আদালত, পশ্চিমবঙ্গ |
| মামলাকারী | জুঁই বিশ্বাস (সাবেক তৃণমূল নেত্রী ও স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী) |
| নিষেধাজ্ঞার মূল বিষয় | দলের প্রধান হিসেবে পরিচয় প্রদান ও প্রশাসনিক কাজে বাধা |
| আর্থিক নিষেধাজ্ঞা | দলের ব্যাংক হিসাব, অর্থ, নথিপত্র ও সম্পত্তি পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা |
| রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট | ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনই যোগ দিয়েছেন বিদ্রোহী ‘নতুন তৃণমূল কংগ্রেসে’ |
| পরবর্তী শুনানি | ৬ আগস্ট ২০২৬ |
আদালতের নজিরবিহীন নির্দেশাবলি
আলিপুর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন থেকে দলের কোনো প্রশাসনিক কাজ করতে পারবেন না বা দলের নামে কোনো নির্দেশ দিতে পারবেন না। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধদের গড়া ‘ওয়ার্কিং কমিটি’-এর কোনো কাজে তিনি হস্তক্ষেপ বা বাধা দিতে পারবেন না।
আর্থিক বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে আদালত জানিয়েছেন, তৃণমূলের সাবেক ব্যাংক হিসাব মমতা পরিচালনা করতে পারবেন না। দলের তহবিল, নথিপত্র এবং সম্পত্তির বিষয়েও কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তার থাকছে না।
মামলার প্রেক্ষাপট ও বাদী জুঁই বিশ্বাস
এই মামলাটি দায়ের করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক নেত্রী এবং কলকাতা পৌর করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস। তিনি রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী। দুর্নীতির মামলায় স্বরূপ বিশ্বাস বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
জুঁই বিশ্বাস ইতিমধ্যে তৃণমূল ছেড়ে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়া ‘নতুন তৃণমূল কংগ্রেসে’ নাম লিখিয়েছেন। অবিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট বা পরিবর্তন করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই জুঁই বিশ্বাস আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।
‘নতুন তৃণমূলের’ উত্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি
বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়া ‘নতুন তৃণমূল কংগ্রেস’ ইতিমধ্যে নিজেদেরই আসল তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করেছে। রাজ্যের তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনই নতুন এই দলে যোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঋতব্রত বলেন, “চাইলে আমরা আমাদের গড়া নতুন দলে এই মুহূর্তে বিধায়কের সংখ্যা বাড়িয়ে ৭৫ জন করতে পারি। কিন্তু সবাইকে আমরা দলে টানব না।” আদালতের নির্দেশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাঁরা আলিপুর আদালতের নির্দেশ মেনেই কাজ করবেন।
অন্যদিকে, তৃণমূলের বিধায়ক আলিফা আহমেদ জানিয়েছেন, আদালতের ওই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এখনই তাঁরা কোনো মন্তব্য করবেন না এবং বিষয়টি দল খতিয়ে দেখছে।
আগামী ৬ আগস্ট পরবর্তী শুনানি
জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত মমতার পক্ষের কোনো বক্তব্য না শুনেই এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তৃণমূলের বৈধতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন বিচারক। আগামী ৬ আগস্ট এই মামলায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের কথা শুনবেন আদালত।





















