০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত চরমে: সপ্তম দিনেও পাল্টাপাল্টি হামলা, ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা সপ্তম রাতের মতো উভয় পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানও কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার দাবি করেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে শনিবার (১৮ জুলাই) এ তথ্য জানা গেছে।

একনজরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি:

বিবরণতথ্য
মূল ঘটনাযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সপ্তম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের হামলাইরানের নজরদারি কেন্দ্র, লজিস্টিক সুবিধা ও ভূগর্ভস্থ অস্ত্র সংরক্ষণাগার
ইরানের পাল্টা হামলাকুয়েত ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি
মার্কিন সেনা উপস্থিতিমধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি সেনা (উচ্চ সতর্কতায়)
হতাহতের খবরইরানের হরমোজগান প্রদেশে ৩ জন নিহতের দাবি (তাসনিম নিউজ)
সতর্কতাবাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কসংকেত

মার্কিন সেন্টকমের বিবৃতি ও সেনা উপস্থিতি

শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফায় অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় পরিচালিত এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক সুবিধা, ভূগর্ভস্থ অস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং তারা সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে (High Alert) রয়েছে।

ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ও স্থানীয় পরিস্থিতি

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশে নতুন হামলার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে তারা জানায়, সর্বশেষ হামলায় সেখানে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এই নিহতের তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

বর্তমানে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, উত্তেজনার জেরে উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনে আবারও বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়েছে এবং দেশটির কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

অপরদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি, আলী আল সালেম ঘাঁটি এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি (আল আজরাক) বিমানঘাঁটিসহ কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলায় মার্কিন বাহিনীর ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের সামরিক বাহিনী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেছে, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের চরম জবাব দেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১০:২১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
৭৪ Time View

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত চরমে: সপ্তম দিনেও পাল্টাপাল্টি হামলা, ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন

Update Time : ১০:২১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা সপ্তম রাতের মতো উভয় পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানও কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার দাবি করেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে শনিবার (১৮ জুলাই) এ তথ্য জানা গেছে।

একনজরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি:

বিবরণতথ্য
মূল ঘটনাযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সপ্তম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের হামলাইরানের নজরদারি কেন্দ্র, লজিস্টিক সুবিধা ও ভূগর্ভস্থ অস্ত্র সংরক্ষণাগার
ইরানের পাল্টা হামলাকুয়েত ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি
মার্কিন সেনা উপস্থিতিমধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি সেনা (উচ্চ সতর্কতায়)
হতাহতের খবরইরানের হরমোজগান প্রদেশে ৩ জন নিহতের দাবি (তাসনিম নিউজ)
সতর্কতাবাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কসংকেত

মার্কিন সেন্টকমের বিবৃতি ও সেনা উপস্থিতি

শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফায় অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশনায় পরিচালিত এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক সুবিধা, ভূগর্ভস্থ অস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং তারা সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে (High Alert) রয়েছে।

ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ও স্থানীয় পরিস্থিতি

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশে নতুন হামলার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে তারা জানায়, সর্বশেষ হামলায় সেখানে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এই নিহতের তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

বর্তমানে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, উত্তেজনার জেরে উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনে আবারও বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়েছে এবং দেশটির কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

অপরদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি, আলী আল সালেম ঘাঁটি এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি (আল আজরাক) বিমানঘাঁটিসহ কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলায় মার্কিন বাহিনীর ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইরানের সামরিক বাহিনী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেছে, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের চরম জবাব দেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।