০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্দোলনকারীদের পানি ও খাবার দেওয়ায় পুলিশের হানা: জুনায়েদের বাবা-ভাইসহ আটক ৪

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক

ভারতের দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা ‘তেলাপোকা পার্টি’র চলমান আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের পানি ও খাবার বিতরণ করায় মোহাম্মদ জুনায়েদ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দিয়েছে পুলিশ। কেবল হানা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তারা, ওই ব্যক্তির বাবা ও ছোট শিশু ভাইকে ধরে নিয়ে গেছে। এমনকি জুনায়েদের বোনের বাড়িতেও হানা দিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে এই অমানবিক পুলিশি তল্লাশির বিষয়টি সামনে আসে।

একনজরে জুনায়েদের বাড়িতে পুলিশি হানার বিবরণ:

বিবরণতথ্য
ভুক্তভোগী স্বেচ্ছাসেবীমোহাম্মদ জুনায়েদ
তথাকথিত ‘অপরাধ’সিজেপি আন্দোলনকারীদের খাবার ও পানি বিতরণ
আটককৃত ব্যক্তিরাজুনায়েদের বাবা, ছোট ভাই, বোনের শ্বশুর ও দেবর
পুলিশি অভিযানের স্থানউত্তর প্রদেশ (নিজ বাড়ি) এবং মেরুট (বোনের বাড়ি)
সহায়তা গ্রহণের স্থানযন্তর মন্তর, নয়াদিল্লি
প্রতিক্রিয়া প্রদানকারীককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)

যে কারণে পুলিশের নজরে জুনায়েদ

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে সিজেপির নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিন তীব্র আন্দোলন হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাসে এই আন্দোলন শেষ হয়।

এই দীর্ঘ ৩৬ দিন যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার ও পানি বিতরণ করে মানবিক সহায়তা করেছেন অনেক সাধারণ মানুষ; তাদেরই একজন হলেন মোহাম্মদ জুনায়েদ। আন্দোলনে তাঁর পানি বিতরণের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। মূলত এরপরই পুলিশের নজরে পড়ে যান তিনি।

‘পানি ও খাবার দেওয়া কি অপরাধ?’

পুলিশের এই হয়রানিমূলক পদক্ষেপের পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য লালানটপ’-এর কাছে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন জুনায়েদ। তিনি বলেন, উত্তর প্রদেশে তার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। ওই সময় তার বাবা ও ছোট ভাইকে তারা ধরে নিয়ে যায়। অপরদিকে মেরুটে অবস্থিত তার বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে বোনের শ্বশুর ও দেবরকেও আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

জুনায়েদ প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন:

“আমার অপরাধ কী? পানি ও খাবার দেওয়া কি অপরাধ?”

জুনায়েদের পাশে সিজেপি

জুনায়েদের পরিবারকে এভাবে হেনস্তা করার খবর জানার পর তাঁর প্রতি গভীর সংহতি জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে,

“অপরাধীদের ধরার বদলে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ আমাদের স্বেচ্ছাসেবী মোহাম্মদ জুনায়েদের বাড়িতে গিয়ে তাদের সময় নষ্ট করছে। এখন পুলিশ তার পরিবারকে হেনস্তা করছে। তার সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে এবং আমরা কখনো তাকে ও তার পরিবারকে ভিক্টিম হতে দেব না।”

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৬:০৪:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
৬৬ Time View

আন্দোলনকারীদের পানি ও খাবার দেওয়ায় পুলিশের হানা: জুনায়েদের বাবা-ভাইসহ আটক ৪

Update Time : ০৬:০৪:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক

ভারতের দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা ‘তেলাপোকা পার্টি’র চলমান আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের পানি ও খাবার বিতরণ করায় মোহাম্মদ জুনায়েদ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দিয়েছে পুলিশ। কেবল হানা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তারা, ওই ব্যক্তির বাবা ও ছোট শিশু ভাইকে ধরে নিয়ে গেছে। এমনকি জুনায়েদের বোনের বাড়িতেও হানা দিয়ে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে এই অমানবিক পুলিশি তল্লাশির বিষয়টি সামনে আসে।

একনজরে জুনায়েদের বাড়িতে পুলিশি হানার বিবরণ:

বিবরণতথ্য
ভুক্তভোগী স্বেচ্ছাসেবীমোহাম্মদ জুনায়েদ
তথাকথিত ‘অপরাধ’সিজেপি আন্দোলনকারীদের খাবার ও পানি বিতরণ
আটককৃত ব্যক্তিরাজুনায়েদের বাবা, ছোট ভাই, বোনের শ্বশুর ও দেবর
পুলিশি অভিযানের স্থানউত্তর প্রদেশ (নিজ বাড়ি) এবং মেরুট (বোনের বাড়ি)
সহায়তা গ্রহণের স্থানযন্তর মন্তর, নয়াদিল্লি
প্রতিক্রিয়া প্রদানকারীককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)

যে কারণে পুলিশের নজরে জুনায়েদ

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে সিজেপির নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিন তীব্র আন্দোলন হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাসে এই আন্দোলন শেষ হয়।

এই দীর্ঘ ৩৬ দিন যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার ও পানি বিতরণ করে মানবিক সহায়তা করেছেন অনেক সাধারণ মানুষ; তাদেরই একজন হলেন মোহাম্মদ জুনায়েদ। আন্দোলনে তাঁর পানি বিতরণের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। মূলত এরপরই পুলিশের নজরে পড়ে যান তিনি।

‘পানি ও খাবার দেওয়া কি অপরাধ?’

পুলিশের এই হয়রানিমূলক পদক্ষেপের পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য লালানটপ’-এর কাছে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন জুনায়েদ। তিনি বলেন, উত্তর প্রদেশে তার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। ওই সময় তার বাবা ও ছোট ভাইকে তারা ধরে নিয়ে যায়। অপরদিকে মেরুটে অবস্থিত তার বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে বোনের শ্বশুর ও দেবরকেও আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

জুনায়েদ প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন:

“আমার অপরাধ কী? পানি ও খাবার দেওয়া কি অপরাধ?”

জুনায়েদের পাশে সিজেপি

জুনায়েদের পরিবারকে এভাবে হেনস্তা করার খবর জানার পর তাঁর প্রতি গভীর সংহতি জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে,

“অপরাধীদের ধরার বদলে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ আমাদের স্বেচ্ছাসেবী মোহাম্মদ জুনায়েদের বাড়িতে গিয়ে তাদের সময় নষ্ট করছে। এখন পুলিশ তার পরিবারকে হেনস্তা করছে। তার সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে এবং আমরা কখনো তাকে ও তার পরিবারকে ভিক্টিম হতে দেব না।”