‘তেলাপোকাদের’ চিহ্নিত করে গুন্ডা দমন আইনে মামলার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে বেশ কয়েকদিন ধরেই উত্তাল ছিল ভারত। রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে সেই আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল পশ্চিমবঙ্গেও। তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ নিজেদের তিন দাবি আদায় করে নিয়ে ইতোমধ্যে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তবে, বিষয়টিকে এখানেই শেষ হতে দিচ্ছেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মিছিল থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ‘গুন্ডা দমন আইন’ প্রয়োগের কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
একনজরে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার মূল বিষয়:
| বিবরণ | তথ্য |
| ঘোষণা প্রদানকারী | শুভেন্দু অধিকারী (মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ) |
| অভিযুক্ত গোষ্ঠী | ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বামপন্থী সংগঠন |
| মূল অভিযোগ | সাংবাদিকদের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা (বোতল ও জুতো নিক্ষেপ) |
| গৃহীত আইনি ব্যবস্থা | ৬টি মামলা দায়ের ও গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ |
| আহত সাংবাদিক | ৬ জন (বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন) |
| শনাক্তকৃত হামলাকারী | অন্তত ৭০ জন (যাদের ছাত্রাবস্থার কোনো প্রমাণ নেই) |
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) কলকাতার ধর্মতলায় বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পক্ষ থেকে বিশাল এক মহামিছিল অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ ওঠে, সেই মিছিল থেকেই পেশাগত দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্য করে পানির বোতল ও জুতো ছোড়া হয় এবং তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শনিবার (২৫ জুলাই) রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি নিজে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছি। ইউনাইটেড ককরোচ মার্চ নামে এই আন্দোলনের ঘোষণা করা হয়েছিল।”
পুলিশের সংযম ও বহিরাগতদের উসকানির অভিযোগ
বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশের চরম সংযমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, সমবেত মিছিলকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করা যাবে না। বারবার প্ররোচনা থাকা সত্ত্বেও বলপ্রয়োগ এড়িয়ে গেছে কলকাতা পুলিশ।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, খিদিরপুর, রাজাবাজার, বেলগাছিয়া ও রাজারহাট থেকে লোক এনে ডোরিনা ক্রসিংয়ে বোতল ও জুতো ছোড়া হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি নিজেদের ছাত্র সংগঠন দাবি করলেও তাদের কোনো বৈধ ছাত্র সংগঠন আছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর জানা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গুন্ডা দমন আইনে মামলা ও অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ
হামলাকারী অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে রাজ্য বিধানসভায় তাদের নামও প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আফরোজ, নাহিদ, তনভির, রাহুল ও জামালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন:
“ছয়জন সাংবাদিক বন্ধু বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত সাংবাদিকদের থেকে লিখিত অভিযোগ আমরা হাতে পেয়েছি। মোট ছয়টি মামলা হয়েছে এবং বিধানসভায় পাশ হওয়া গুন্ডা দমন আইন এই মামলাগুলোতে যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে এরই মধ্যে ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা আদতে কোনো সাধারণ ছাত্র বা নিট আন্দোলনের অংশ নন।”





















