বাংলাদেশি দম্পতিকে রাস্তায় ফেলে পেটালেন ভারতীয় চিকিৎসক, গ্রেপ্তারের পর জামিন
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
ভারতের বেঙ্গালুরুতে নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের জেরে এক বাংলাদেশি দম্পতির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছেন স্থানীয় এক চিকিৎসক। ওই দম্পতিকে রাস্তায় ফেলে বেদম মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ওই চিকিৎসককে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও, আদালতে তোলার পর তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে গেছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
একনজরে বেঙ্গালুরুর ঘটনার চিত্র:
| বিবরণ | তথ্য |
| মূল ঘটনা | বাংলাদেশি দম্পতির ওপর শারীরিক হামলা ও হেনস্তা |
| ভুক্তভোগী | নাসরিনা বিলাল (২৩) ও তাঁর স্বামী মোহাম্মদ বিলাল |
| অভিযুক্ত হামলাকারী | ডা. নাগেন্দ্র (স্থানীয় সাই ক্লিনিকের চিকিৎসক) |
| ঘটনাস্থল | বেত্তাদাসাপুরা এলাকা (হোয়াইটফিল্ডের কাছাকাছি), বেঙ্গালুরু |
| অভিযুক্তের বর্তমান অবস্থা | গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালত থেকে জামিনে মুক্ত |
যেভাবে হামলার শিকার হন দম্পতি
পুলিশের তথ্যমতে, বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ডের কাছাকাছি বেত্তাদাসাপুরা এলাকায় বসবাস করেন নাসরিনা বিলাল ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলাল। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এই দম্পতির অভিযোগ, সকালে রাস্তায় দেখা হলে ডা. নাগেন্দ্র হুট করেই তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি তাদের ওপর সহিংস হামলা চালান।
নাসরিনা বিলালের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই চিকিৎসক প্রথমে তাদের বাংলাদেশি জাতীয়তা নিয়ে হিন্দিতে অকথ্য গালিগালাজ করেন। এরপর নাসরিনাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে মারধর করেন। পরে মোহাম্মদ বিলালের দিকে তেড়ে গিয়ে তাঁর মাথায় ও পিঠে উপর্যুপরি আঘাত করেন এবং মাটিতে ফেলে বেশ কয়েকটি লাথি মারেন। এমনকি ঘটনাটি পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে তাদের মেরে ফেলার হুমকিও দেন ডা. নাগেন্দ্র।
চিকিৎসকের দাবি ও পুলিশের কড়া অবস্থান
নাসরিনা বিলালের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে এবং অভিযুক্ত ডা. নাগেন্দ্রকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত চিকিৎসক দাবি করেন, ওই এলাকায় অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের বসবাসের কারণে তিনি সন্দেহবশত ওই দম্পতিকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ মনে করেছিলেন।
তবে পুলিশ এই যুক্তির কড়া জবাব দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নাগরিকত্ব বা অবৈধ অনুপ্রবেশসংক্রান্ত কোনো সন্দেহ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া কিংবা কাউকে রাস্তায় ফেলে গায়ে হাত তুলে এর সমাধান করা যায় না।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা
বেঙ্গালুরুর স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই বাংলাদেশি দম্পতির ভারতে প্রবেশের বৈধ কাগজপত্র ও অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি অবস্থা যাচাই করার জন্যও পৃথক একটি তদন্ত চালানো হচ্ছে।





















