০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন: শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেটের পার্শ্ববর্তী মির্জা গালিব স্ট্রিটের (সাবেক ফ্রি স্কুল স্ট্রিট) একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। নিহতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর ৩টার দিকে হোটেলটির চারতলায় এই অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী।

একনজরে অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের বিস্তারিত:

বিবরণতথ্য
ঘটনার স্থানমির্জা গালিব স্ট্রিট (নিউ মার্কেটের পাশে), কলকাতা
সময়বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬), ভোর ৩টা
নিহতের সংখ্যা ও পরিচয়৯ জন (সবাই বাংলাদেশি নাগরিক)
নিহতদের বিবরণ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ১টি শিশু
আহতদের চিকিৎসাকলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
উদ্ধারকৃত ব্যক্তির সংখ্যাঅন্তত ৬০ জন
আগুনের সম্ভাব্য কারণএসির শর্টসার্কিট (প্রাথমিক ধারণা)

আগুনের সূত্রপাত ও উদ্ধারকাজ

মির্জা গালিব স্ট্রিট একেবারে কলকাতা নিউ মার্কেটের পাশেই অবস্থিত। আগুন লাগার সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে অনেকেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, বাইরে থেকে শুরুতে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল না, শুধু প্রচুর কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হোটেলের ভেতর চরম আতঙ্ক তৈরি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটিতে প্রবেশের এবং বেরোনোর পথ খুবই সংকীর্ণ হওয়ার কারণে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। দমকল বাহিনী ও পুলিশের চেষ্টায় এখন পর্যন্ত ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধোঁয়ায় অচেতন হয়ে পড়া অনেককেই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ ও তদন্ত

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হোটেলে আটকে থাকা অবস্থাতেই অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের শরীরে পোড়ার চিহ্ন থাকলেও চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আহত কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চারতলার একটি এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার।

দমকল অফিসের পাশেই চরম অবহেলা!

পুলিশ ইতিমধ্যে এলাকাটি ঘিরে রেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র একটি বিল্ডিং পরেই রয়েছে দমকল বাহিনীর অফিস। এত কাছে দমকল অফিস থাকা সত্ত্বেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ন্যূনতম নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে হোটেলটি চলছিল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ১০:৩৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৪৭৫ Time View

কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন: শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু

Update Time : ১০:৩৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেটের পার্শ্ববর্তী মির্জা গালিব স্ট্রিটের (সাবেক ফ্রি স্কুল স্ট্রিট) একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। নিহতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর ৩টার দিকে হোটেলটির চারতলায় এই অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী।

একনজরে অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের বিস্তারিত:

বিবরণতথ্য
ঘটনার স্থানমির্জা গালিব স্ট্রিট (নিউ মার্কেটের পাশে), কলকাতা
সময়বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬), ভোর ৩টা
নিহতের সংখ্যা ও পরিচয়৯ জন (সবাই বাংলাদেশি নাগরিক)
নিহতদের বিবরণ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ১টি শিশু
আহতদের চিকিৎসাকলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
উদ্ধারকৃত ব্যক্তির সংখ্যাঅন্তত ৬০ জন
আগুনের সম্ভাব্য কারণএসির শর্টসার্কিট (প্রাথমিক ধারণা)

আগুনের সূত্রপাত ও উদ্ধারকাজ

মির্জা গালিব স্ট্রিট একেবারে কলকাতা নিউ মার্কেটের পাশেই অবস্থিত। আগুন লাগার সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে অনেকেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, বাইরে থেকে শুরুতে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল না, শুধু প্রচুর কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হোটেলের ভেতর চরম আতঙ্ক তৈরি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটিতে প্রবেশের এবং বেরোনোর পথ খুবই সংকীর্ণ হওয়ার কারণে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। দমকল বাহিনী ও পুলিশের চেষ্টায় এখন পর্যন্ত ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধোঁয়ায় অচেতন হয়ে পড়া অনেককেই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ ও তদন্ত

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হোটেলে আটকে থাকা অবস্থাতেই অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের শরীরে পোড়ার চিহ্ন থাকলেও চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আহত কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চারতলার একটি এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার।

দমকল অফিসের পাশেই চরম অবহেলা!

পুলিশ ইতিমধ্যে এলাকাটি ঘিরে রেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র একটি বিল্ডিং পরেই রয়েছে দমকল বাহিনীর অফিস। এত কাছে দমকল অফিস থাকা সত্ত্বেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ন্যূনতম নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে হোটেলটি চলছিল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।