জাতিসংঘে ড. খলিলুর রহমানের কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক: নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারে ব্যাকফুটে ভারত
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
‘সাপ মরবে অথচ লাঠিও ভাঙবে না’— প্রবাদটিরই যেন বাস্তব প্রয়োগ দেখা গেল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চলতি অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান এমন এক কূটনৈতিক চাল চেলেছেন, যা নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার ভারতীয় স্বপ্নে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে[cite: 2]। প্রতিবেশী ভারতের সরাসরি কোনো বিরোধিতা না করেও, তিনি কৌশলে পুরো সমীকরণটি পাল্টে দিয়েছেন।
একনজরে খলিলুর রহমানের কূটনৈতিক চাল:
| বিবরণ | তথ্য |
| মঞ্চ | জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন (UNGA 81)[cite: 2] |
| সভাপতি | ড. খলিলুর রহমান (বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)[cite: 2] |
| ভারতের লক্ষ্য | নিরাপত্তা পরিষদের ৬ষ্ঠ স্থায়ী সদস্য হিসেবে নাম লেখানো[cite: 2] |
| খলিলুর রহমানের প্রস্তাব | স্থায়ী সদস্য হিসেবে আফ্রিকা মহাদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া[cite: 2] |
| প্রভাব | ভারত ব্যাকফুটে, ভেস্তে যাচ্ছে মোদি সরকারের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা[cite: 2] |
ভারতের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও নতুন সমীকরণ
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হতে ভারত গত কয়েক বছর ধরেই মরিয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও রাশিয়ার সমর্থন আদায় করে নিজেদের ষষ্ট স্থায়ী সদস্য হিসেবে প্রায় নিশ্চিত ভেবেছিল[cite: 2]। এমনকি হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থনও পেয়েছিল নয়াদিল্লি[cite: 2]। তবে এই সহজ হিসেবে জল ঢেলে দিয়েছেন সভাপতি ড. খলিলুর রহমান।
আফ্রিকা কার্ড ও ভারতের অস্বস্তি
সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসে ড. খলিলুর রহমান এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসেও কেন জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী আফ্রিকা মহাদেশের কোনো স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব নেই[cite: 2]?
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে আফ্রিকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের কোনো স্থায়ী আসন নেই[cite: 2]। ড. খলিলুর রহমান সরাসরি আফ্রিকাকে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য করার প্রস্তাব সামনে আনেন[cite: 2]। এই একটি চালই ভারতকে কূটনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। কারণ, আফ্রিকার ৫৪টি দেশের প্রতিনিধিত্ব বাদ দিয়ে ভারত আগে সুযোগ পাবে, এমন দাবি তোলা এখন জাতিসংঘের নীতির সাথেই সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কূটনৈতিক দূরদর্শিতার এক অনন্য উদাহরণ
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. খলিলুর রহমানের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং সুচতুর। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সাইপ্রাসকে সমর্থন দিয়ে ভারত এর আগে যে বৈরিতা দেখিয়েছিল, এটি যেন তারই একটি পরোক্ষ ও মোক্ষম জবাব[cite: 2]। তিনি ভারতের নাম একবারও উচ্চারণ করেননি, অথচ জাতিসংঘের সংস্কারের নতুন মাপকাঠি নির্ধারণ করে দিয়ে ভারতের স্থায়ী সদস্য হওয়ার পথটি কঠিন করে দিয়েছেন[cite: 2]।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)
জাতিসংঘের মতো বিশ্বমঞ্চে পেশিশক্তি বা অর্থনৈতিক আকারের চেয়ে যে কূটনৈতিক প্রজ্ঞা অনেক বেশি কার্যকর, ড. খলিলুর রহমান সেটাই প্রমাণ করলেন। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারত চাইলেই একচেটিয়া দাদাগিরি চালাতে পারবে না[cite: 2]। আফ্রিকার অধিকার আদায়ের কথা বলে তিনি একদিকে যেমন বৈশ্বিক সমর্থন আদায় করে নিলেন, অন্যদিকে ভারতের একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের স্বপ্নেও লাগাম পরালেন। বাংলাদেশের কূটনীতির ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।





















