জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর উপস্থিতির প্রতিবাদ: নিউইয়র্কে অস্কারজয়ী অভিনেত্রীসহ শতাধিক গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন হাজারো শান্তিকামী মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সদর দপ্তরের কাছে ফার্স্ট অ্যাভিনিউতে আয়োজিত এই বিশাল অবস্থান কর্মসূচি থেকে অস্কারজয়ী প্রখ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সার্যান্ডন এবং জনপ্রিয় কমেডি তারকা হান্নাহ আইনবাইন্ডারসহ শতাধিক সংস্কৃতি ও অধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন পুলিশ।
একনজরে নিউইয়র্কের প্রতিবাদ কর্মসূচির চিত্র:
| বিবরণ | তথ্য |
| ঘটনার স্থান | ফার্স্ট অ্যাভিনিউ, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে, নিউইয়র্ক |
| আয়োজক সংগঠন | জিউয়িশ ভয়েস ফর পিস (Jewish Voice for Peace) |
| মূল দাবি | ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা ও যুদ্ধবিরতি |
| গ্রেপ্তারের সংখ্যা | ১০৩ জন অধিকারকর্মী ও তারকা |
| গ্রেপ্তারকৃত উল্লেখযোগ্য তারকা | সুসান সার্যান্ডন, হান্নাহ আইনবাইন্ডার |
তারকাদের প্রতিবাদ ও পুলিশের হস্তক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘জিউয়িশ ভয়েস ফর পিস’-এর আহ্বানে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা ‘বোমায় নয়, মানুষের পেছনে অর্থ দিন’ এবং ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো’ লেখা টি-শার্ট পরিধান করে ও প্ল্যাকার্ড হাতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।
অবস্থান কর্মসূচিতে সুসান সার্যান্ডন ও হান্নাহ আইনবাইন্ডার ছাড়াও হলিউড ও বিনোদন জগতের আরও অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’ খ্যাত অভিনেত্রী সিনথিয়া নিক্সন, প্রখ্যাত নাট্যকার টনি কুশনার, কমেডিয়ান ক্যালেব হিয়ারন এবং লেখিকা গ্লেনন ডয়েল উল্লেখযোগ্য। শান্তিপূর্ণ এই বিক্ষোভ থেকে মার্কিন পুলিশ ১০৩ জন অধিকারকর্মীকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।
ফিলিস্তিনের পক্ষে তারকাদের অবিচল অবস্থান অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সার্যান্ডন দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনের অধিকারের পক্ষে একজন সোচ্চার কণ্ঠস্বর। এর আগেও তিনি একাধিকবার গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং নির্বিচার হামলার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। অন্যদিকে, আটকের পর পুলিশ ভ্যান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি বার্তা পোস্ট করেন কমেডি তারকা হান্নাহ আইনবাইন্ডার। সেখানে তিনি লেখেন, তাদের এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি যেন ফিলিস্তিন ও দক্ষিণ লেবাননের নিরীহ মানুষের ওপর চলা ভয়াবহ গণহত্যার প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আরও নিবিড়ভাবে আকর্ষণ করে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্ষোভ গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার ও ভয়াবহ হামলাকে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনে ইতোমধ্যে সুস্পষ্ট ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছে। এমন চরম বিতর্কিত এবং যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত একজন নেতার জাতিসংঘে উপস্থিত হয়ে ভাষণ দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেই নিউইয়র্কের রাজপথে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মার্কিন নাগরিক এবং বিশ্বখ্যাত তারকারা।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)
নিউইয়র্কের এই বিক্ষোভ শুধু ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদ নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতির প্রতিও একটি বড় চপেটাঘাত। খোদ মার্কিন তারকারা তাদের দেশের অস্ত্র দিয়ে ফিলিস্তিনে চলা গণহত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নামছেন এবং গ্রেপ্তার বরণ করছেন। এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের বিবেক এখনও জাগ্রত এবং তারা কোনোভাবেই যুদ্ধাপরাধকে মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। জাতিসংঘের মতো শান্তি প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ মঞ্চে একজন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।





















