মুন্সীগঞ্জে গ্রাহকের বিপুল অর্থ নিয়ে উধাও অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশ ম্যানেজার, দুশ্চিন্তায় গ্রাহকরা
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | অর্থনীতি ও ব্যাংক
সরকারি ব্যাংকে টাকা রেখেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা। এবার মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের এফডিআর (FDR)-এর বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে[cite: 2]। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম শরিফুজ্জামান ওরফে সোহাগ, যিনি ব্যাংকটির শ্রীনগর শাখায় ক্যাশ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন[cite: 2]। গত মঙ্গলবার থেকে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমানত হারানো শত শত গ্রাহক ব্যাংকটিতে ভিড় জমাচ্ছেন এবং সেখানে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে[cite: 2]।
এফডিআরের প্রলোভন ও গ্রাহকদের হাহাকার
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট) করে দেওয়ার কথা বলে ক্যাশ ম্যানেজার শরিফুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন[cite: 2]। গ্রাহকদের ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক প্রিন্টেড রসিদের বদলে নিজের হাতে লেখা স্লিপ দিয়ে তিনি আশ্বস্ত করতেন যে, সরকারি ব্যাংকের ম্যানেজারের দেওয়া এই স্লিপেই তাদের অর্থের পূর্ণ নিরাপত্তা রয়েছে[cite: 2]। বৃহস্পতিবার এই ক্যাশ ম্যানেজারের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় ছুটে আসেন অসংখ্য গ্রাহক[cite: 2]। সারাজীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় হারিয়ে ব্যাংক চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে টাকা দিয়েও এমন প্রতারণার শিকার হওয়ায় ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা নিয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ[cite: 2]।
একনজরে অগ্রণী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা:
| বিবরণ | তথ্য |
| ব্যাংকের নাম ও শাখা | অগ্রণী ব্যাংক, শ্রীনগর শাখা, মুন্সীগঞ্জ[cite: 2] |
| অভিযুক্ত কর্মকর্তা | ক্যাশ ম্যানেজার শরিফুজ্জামান ওরফে সোহাগ[cite: 2] |
| যোগদানের সময় | জানুয়ারি ২০২৪[cite: 2] |
| নিখোঁজের সময় | গত মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ[cite: 2] |
| প্রতারণার ধরন | এফডিআরের নামে টাকা নিয়ে হাতে লেখা স্লিপ প্রদান[cite: 2] |
ব্যাংক ঘেরাও ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ
গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের মাত্রা এতটাই তীব্র আকার ধারণ করে যে, বৃহস্পতিবার রাতে তারা একজোট হয়ে অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখা ঘেরাও করেন[cite: 2]। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের মোতায়েন করা হয়[cite: 2]। প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানান, যেহেতু এটি একটি সরকারি ব্যাংক, তাই তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে[cite: 2]।
কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্ত ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অবস্থান
চাঞ্চল্যকর এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনার প্রকৃত আর্থিক পরিমাণ এবং মোট কতজন গ্রাহক প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি[cite: 2]। তবে বিষয়টি তদন্ত করতে ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল শ্রীনগরে পৌঁছে তাদের কাজ শুরু করেছে[cite: 2]। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে[cite: 2]।
অন্যদিকে, অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিখোঁজ কর্মকর্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে[cite: 2]। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে[cite: 2]। জানা গেছে, অভিযুক্ত শরিফুজ্জামান চলতি বছরের (২০২৪) জানুয়ারিতেই এই শাখায় ক্যাশ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছিলেন[cite: 2]।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার
দেশের সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার স্বার্থেই সরকারি ব্যাংকগুলোতে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ গচ্ছিত রাখেন। কিন্তু একজন ক্যাশ ম্যানেজারের হাতে লেখা স্লিপের বিপরীতে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি এড়িয়ে তার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট ও মনিটরিং ব্যবস্থার বড় ধরনের দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং গ্রাহকদের আমানত দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার ওপরই নির্ভর করছে সরকারি ব্যাংকগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা।

























