০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেরে গিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছেন নেতানিয়াহু, বিরোধীদের তীব্র নিন্দা

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনীতি

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে কাতার ও তুরস্কের মতো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ তুলেছেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তাকে ‘পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার রাজনৈতিক কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছে বিরোধী শিবির। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট এই অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহু সুপরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের ফলাফলকে অবৈধ প্রমাণের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

একনজরে ইসরায়েল নির্বাচনের ফল ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ:

বিবরণতথ্য
মোট আসন১২০টি (সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১ আসন)
নেতানিয়াহুর জোটের আসন৫৩টি
আইজেনকটের জোটের আসন৪৮টি
আরব দলগুলোর (জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম) আসন১৯টি (রেকর্ড সংখ্যক)
নেতানিয়াহুর অভিযোগআরব দলগুলোর তহবিলে কাতার ও তুরস্কের হস্তক্ষেপ ও ঘুষ প্রদান
তদন্তকারী সংস্থাশিন বেইত (অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা)

আরব দলগুলোর রেকর্ড আসন ও কিংমেকার হয়ে ওঠা

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী জোট কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল আরব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি। বহুবছর ধরে ইসরায়েলি নির্বাচন বয়কট করে আসা আরব ভোটাররা এবার নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে বিপুল সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। এর ফলে আরব দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এবং ‘রাআম’ নেসেটে রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। এই আসনগুলোর ওপর ভিত্তি করেই আরব দলগুলো এখন ইসরায়েলে সরকার গঠনের প্রধান নিয়ামক বা কিংমেকার হয়ে উঠেছে।

বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ ও কাতারের প্রত্যাখ্যান

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) অনুরোধে আরব দলগুলোর তহবিলের উৎস ও ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তের জন্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ‘শিন বেইত’-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির দাবি, আরব এলাকায় ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে কাতার তহবিল জুগিয়েছে এবং এটি গণতন্ত্রের ওপর চরম আঘাত।

তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, হাস্যকর ও বিপজ্জনক বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দোহার বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে শিন বেইত ও সিইসি’র ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনে পদ্ধতিগতভাবে স্বচ্ছতা লঙ্ঘনের বা ভোট কেনাবেচার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

ইসরায়েলের রাজনীতিতে আরব দলগুলোর এত বিশাল আসন পাওয়া একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। নেতানিয়াহুর বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক রাজনৈতিক কৌশল। তার মূল লক্ষ্য হলো আরব দলগুলোর বৈধতা এমনভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা, যাতে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট তাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে। কারণ, এই মুহূর্তে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া আইজেনকটের সরকার গঠনের কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু এই বিতর্ক উসকে দিয়ে ডানপন্থি ভোটারদের মাঝে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন যে, তার সরকার গণতান্ত্রিকভাবে হারেনি, বরং বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ১১:৫৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
৩০২ Time View

হেরে গিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছেন নেতানিয়াহু, বিরোধীদের তীব্র নিন্দা

Update Time : ১১:৫৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনীতি

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে কাতার ও তুরস্কের মতো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ তুলেছেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তাকে ‘পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার রাজনৈতিক কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছে বিরোধী শিবির। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট এই অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহু সুপরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের ফলাফলকে অবৈধ প্রমাণের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

একনজরে ইসরায়েল নির্বাচনের ফল ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ:

বিবরণতথ্য
মোট আসন১২০টি (সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১ আসন)
নেতানিয়াহুর জোটের আসন৫৩টি
আইজেনকটের জোটের আসন৪৮টি
আরব দলগুলোর (জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম) আসন১৯টি (রেকর্ড সংখ্যক)
নেতানিয়াহুর অভিযোগআরব দলগুলোর তহবিলে কাতার ও তুরস্কের হস্তক্ষেপ ও ঘুষ প্রদান
তদন্তকারী সংস্থাশিন বেইত (অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা)

আরব দলগুলোর রেকর্ড আসন ও কিংমেকার হয়ে ওঠা

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী জোট কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল আরব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি। বহুবছর ধরে ইসরায়েলি নির্বাচন বয়কট করে আসা আরব ভোটাররা এবার নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে বিপুল সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। এর ফলে আরব দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ এবং ‘রাআম’ নেসেটে রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। এই আসনগুলোর ওপর ভিত্তি করেই আরব দলগুলো এখন ইসরায়েলে সরকার গঠনের প্রধান নিয়ামক বা কিংমেকার হয়ে উঠেছে।

বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ ও কাতারের প্রত্যাখ্যান

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) অনুরোধে আরব দলগুলোর তহবিলের উৎস ও ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তের জন্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ‘শিন বেইত’-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির দাবি, আরব এলাকায় ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে কাতার তহবিল জুগিয়েছে এবং এটি গণতন্ত্রের ওপর চরম আঘাত।

তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, হাস্যকর ও বিপজ্জনক বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দোহার বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে শিন বেইত ও সিইসি’র ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনে পদ্ধতিগতভাবে স্বচ্ছতা লঙ্ঘনের বা ভোট কেনাবেচার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

ইসরায়েলের রাজনীতিতে আরব দলগুলোর এত বিশাল আসন পাওয়া একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। নেতানিয়াহুর বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক রাজনৈতিক কৌশল। তার মূল লক্ষ্য হলো আরব দলগুলোর বৈধতা এমনভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা, যাতে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট তাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে। কারণ, এই মুহূর্তে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া আইজেনকটের সরকার গঠনের কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু এই বিতর্ক উসকে দিয়ে ডানপন্থি ভোটারদের মাঝে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন যে, তার সরকার গণতান্ত্রিকভাবে হারেনি, বরং বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে।