০৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে নৌ-নেটওয়ার্কের আওতায় আনছে সরকার: খাল পুনরুদ্ধারে ব্যাপক উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও নগর উন্নয়ন

রাজধানী ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন এবং যানজটমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকার চারপাশের পাঁচটি নদী এবং অভ্যন্তরীণ খালগুলোকে ঘিরে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে সরকার[cite: 2]। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ৫৫টি খাল পুনর্খনন করে নৌ-যোগাযোগের এক নতুন নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী[cite: 2]। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মান্ডা, জিরানী, কালুনগর এবং শ্যামপুর খালের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

একনজরে খাল ও নদী পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ:

বিবরণতথ্য
নদীর উন্নয়নঢাকার চারপাশের ৫টি নদী পরিচ্ছন্ন করে নৌ-চলাচল উপযোগী করা
খালের সংখ্যাদক্ষিণ সিটির ২৬টি ও উত্তর সিটির ২৯টি (মোট ৫৫টি খাল)
বর্তমান কাজমান্ডা, জিরানী, কালুনগর ও শ্যামপুর খালের কাজ চলমান
নতুন অবকাঠামোগাইডওয়াল, রিটার্নিং ওয়াল, ওয়াকওয়ে এবং বৃক্ষরোপণ
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাস্যুয়ারেজ লাইন ঢাকার বাইরে এসটিপি-তে (STP) নেওয়া হবে

নদী ও খালের যৌবন ফেরানোর মাস্টারপ্ল্যান

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় ঢাকার নদী ও খালগুলোকে ৪০-৫০ বছর আগের মতো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে[cite: 2]। এর জন্য মুখ্য সচিব আব্দুল সাত্তারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে চার-পাঁচজন উপদেষ্টা, দুই সিটির প্রশাসক এবং ৩৯ জন সচিব অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন

কমিটি ইতোমধ্যে একটি স্টিমারে করে ঢাকার চারপাশের নদীপথগুলো পরিদর্শন করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নদীর দুই পাড় দখলমুক্ত করে গাইডওয়াল এবং রিটার্নিং ওয়াল দিয়ে বাঁধানো হবে, যাতে শহরের যানজট এড়াতে মানুষ নৌযানে করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাতায়াত করতে পারে[cite: 2]। অভ্যন্তরীণ খালগুলোর পাড়ে মানুষের হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে, নেটিং এবং সবুজায়নের জন্য বৃক্ষরোপণ করা হবে।

স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা ও দখলদারদের উচ্ছেদ

ঢাকা শহরের দুর্গন্ধময় স্যুয়ারেজ লাইনগুলো যেন সরাসরি নদীতে না পড়ে, তার জন্য দাসকান্দি, পাগলা, মিরপুর, উত্তরা এবং মাদানী এভিনিউয়ের মতো ঢাকার বাইরের এলাকাগুলোতে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন করা হবে। সেখান থেকে পানি পরিশোধন করে নদীতে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা খালের জমি দখল করে বাড়িঘর বানিয়েছেন, তাদের এ বছরই উচ্ছেদ করা হবে। তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল না বলে তাদের খাল উদ্ধারের কোনো অগ্রগতি (০%) ছিল না এবং জনগণও তাদের সহযোগিতা করেনি। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে এবং জনপ্রতিনিধিরা ভোটের পরোয়া না করেই অবৈধ দখল উচ্ছেদে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন।

শীত মৌসুমেই কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি

মান্ডা, জিরানী, কালুনগর এবং শ্যামপুর খালের কাজের বর্তমান অগ্রগতি ১৭-১৮ শতাংশ বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন, এই শীত বা শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই যেন খালগুলোর খনন ও উন্নয়নের কাজ একটা সন্তোষজনক পর্যায়ে শেষ করা হয়, যাতে আগামী বর্ষায় শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়[cite: 2]। এছাড়া শহরের ভেতরে যেসব অবৈধ বাঁশের ব্রিজ রয়েছে, সেগুলো ভেঙে শিগগিরই দৃষ্টিনন্দন আরসিসি (RCC) ব্রিজ নির্মাণ করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

ঢাকার চারপাশের নদী এবং অভ্যন্তরীণ খালগুলো একসময় এই শহরের প্রাণ ছিল। কিন্তু দখল, দূষণ আর অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে তা আজ মরা খালে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের এই নৌ-নেটওয়ার্ক তৈরি এবং খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে শুধু গাইডওয়াল তৈরি বা খাল খনন করলেই হবে না, উদ্ধারকৃত জায়গা পুনরায় যেন বেদখল না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। সাধারণ নাগরিকদেরও নিজেদের স্যুয়ারেজ বা বর্জ্য সরাসরি খালে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। সরকার ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টাতেই ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য ও আধুনিক নৌ-নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ০৫:৪২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩০৪ Time View

ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে নৌ-নেটওয়ার্কের আওতায় আনছে সরকার: খাল পুনরুদ্ধারে ব্যাপক উদ্যোগ

Update Time : ০৫:৪২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও নগর উন্নয়ন

রাজধানী ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন এবং যানজটমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ঢাকার চারপাশের পাঁচটি নদী এবং অভ্যন্তরীণ খালগুলোকে ঘিরে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে সরকার[cite: 2]। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ৫৫টি খাল পুনর্খনন করে নৌ-যোগাযোগের এক নতুন নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী[cite: 2]। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মান্ডা, জিরানী, কালুনগর এবং শ্যামপুর খালের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

একনজরে খাল ও নদী পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ:

বিবরণতথ্য
নদীর উন্নয়নঢাকার চারপাশের ৫টি নদী পরিচ্ছন্ন করে নৌ-চলাচল উপযোগী করা
খালের সংখ্যাদক্ষিণ সিটির ২৬টি ও উত্তর সিটির ২৯টি (মোট ৫৫টি খাল)
বর্তমান কাজমান্ডা, জিরানী, কালুনগর ও শ্যামপুর খালের কাজ চলমান
নতুন অবকাঠামোগাইডওয়াল, রিটার্নিং ওয়াল, ওয়াকওয়ে এবং বৃক্ষরোপণ
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাস্যুয়ারেজ লাইন ঢাকার বাইরে এসটিপি-তে (STP) নেওয়া হবে

নদী ও খালের যৌবন ফেরানোর মাস্টারপ্ল্যান

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় ঢাকার নদী ও খালগুলোকে ৪০-৫০ বছর আগের মতো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে[cite: 2]। এর জন্য মুখ্য সচিব আব্দুল সাত্তারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে চার-পাঁচজন উপদেষ্টা, দুই সিটির প্রশাসক এবং ৩৯ জন সচিব অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন

কমিটি ইতোমধ্যে একটি স্টিমারে করে ঢাকার চারপাশের নদীপথগুলো পরিদর্শন করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নদীর দুই পাড় দখলমুক্ত করে গাইডওয়াল এবং রিটার্নিং ওয়াল দিয়ে বাঁধানো হবে, যাতে শহরের যানজট এড়াতে মানুষ নৌযানে করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাতায়াত করতে পারে[cite: 2]। অভ্যন্তরীণ খালগুলোর পাড়ে মানুষের হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে, নেটিং এবং সবুজায়নের জন্য বৃক্ষরোপণ করা হবে।

স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা ও দখলদারদের উচ্ছেদ

ঢাকা শহরের দুর্গন্ধময় স্যুয়ারেজ লাইনগুলো যেন সরাসরি নদীতে না পড়ে, তার জন্য দাসকান্দি, পাগলা, মিরপুর, উত্তরা এবং মাদানী এভিনিউয়ের মতো ঢাকার বাইরের এলাকাগুলোতে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন করা হবে। সেখান থেকে পানি পরিশোধন করে নদীতে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা খালের জমি দখল করে বাড়িঘর বানিয়েছেন, তাদের এ বছরই উচ্ছেদ করা হবে। তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিল না বলে তাদের খাল উদ্ধারের কোনো অগ্রগতি (০%) ছিল না এবং জনগণও তাদের সহযোগিতা করেনি। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে এবং জনপ্রতিনিধিরা ভোটের পরোয়া না করেই অবৈধ দখল উচ্ছেদে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন।

শীত মৌসুমেই কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি

মান্ডা, জিরানী, কালুনগর এবং শ্যামপুর খালের কাজের বর্তমান অগ্রগতি ১৭-১৮ শতাংশ বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন, এই শীত বা শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই যেন খালগুলোর খনন ও উন্নয়নের কাজ একটা সন্তোষজনক পর্যায়ে শেষ করা হয়, যাতে আগামী বর্ষায় শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়[cite: 2]। এছাড়া শহরের ভেতরে যেসব অবৈধ বাঁশের ব্রিজ রয়েছে, সেগুলো ভেঙে শিগগিরই দৃষ্টিনন্দন আরসিসি (RCC) ব্রিজ নির্মাণ করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

ঢাকার চারপাশের নদী এবং অভ্যন্তরীণ খালগুলো একসময় এই শহরের প্রাণ ছিল। কিন্তু দখল, দূষণ আর অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে তা আজ মরা খালে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের এই নৌ-নেটওয়ার্ক তৈরি এবং খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তবে শুধু গাইডওয়াল তৈরি বা খাল খনন করলেই হবে না, উদ্ধারকৃত জায়গা পুনরায় যেন বেদখল না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। সাধারণ নাগরিকদেরও নিজেদের স্যুয়ারেজ বা বর্জ্য সরাসরি খালে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। সরকার ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টাতেই ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য ও আধুনিক নৌ-নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।