০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও বিশেষ গুরুত্ব

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও অর্থনীতি

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) এবং উন্নয়ন সহযোগিতার পরিধি আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এক সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রধানমন্ত্রী এই তাগিদ দেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অর্থনৈতিক কূটনীতির পাশাপাশি ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

একনজরে বাংলাদেশ-চীন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক:

আলোচনার বিষয়বিস্তারিত তথ্য
বৈঠকের স্থান ও সময়সচিবালয় (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়), ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী
চীনের প্রতিনিধিত্ববিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন
প্রধান এজেন্ডাদ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকট
বিশেষ দিকজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA 81) সফল সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চীনের অভিনন্দন

বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত

চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের পরিধি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BIDA) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিডা চেয়ারম্যানের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সরকার চীনের ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (SEZ) বিনিয়োগের পথ আরও সুগম করতে চায়। প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং অবকাঠামো খাতে চীনের বিশাল বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের কৌশলগত ভূমিকা

অর্থনৈতিক ইস্যুর বাইরে এদিনের বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল রোহিঙ্গা সংকট। সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও আরাকান আর্মির ওপর চীনের ব্যাপক ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব রয়েছে। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চীনের সক্রিয় মধ্যস্থতা অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে চীন সরকারকে এই সংকট সমাধানে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ সফরের সাফল্য ও চীনের অভিনন্দন

জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সফল পদচারণা আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। বৈঠকের শুরুতেই চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফল অংশগ্রহণ এবং নিউইয়র্কে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রচেষ্টা এবং মেগা প্রকল্পগুলোতে চীনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের আমলে বেইজিং ও ঢাকার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার কেবল পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নির্ভর না করে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব’ নীতির ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি (Balanced Foreign Policy) গ্রহণ করেছে, চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাথে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ। দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন (Three-R Strategy) এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে এই মুহূর্তে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। চীনের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তিকে পাশে পেলে দেশের মেগা অবকাঠামো এবং শিল্প খাতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। একই সাথে, মিয়ানমার ইস্যুতে চীনের ইতিবাচক মনোভাব আদায় করতে পারলে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটেরও একটি সম্মানজনক সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে, যা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ০৬:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৮ Time View

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও বিশেষ গুরুত্ব

Update Time : ০৬:৪৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও অর্থনীতি

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) এবং উন্নয়ন সহযোগিতার পরিধি আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এক সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রধানমন্ত্রী এই তাগিদ দেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অর্থনৈতিক কূটনীতির পাশাপাশি ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

একনজরে বাংলাদেশ-চীন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক:

আলোচনার বিষয়বিস্তারিত তথ্য
বৈঠকের স্থান ও সময়সচিবালয় (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়), ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী
চীনের প্রতিনিধিত্ববিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন
প্রধান এজেন্ডাদ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকট
বিশেষ দিকজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA 81) সফল সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চীনের অভিনন্দন

বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত

চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের পরিধি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BIDA) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিডা চেয়ারম্যানের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, সরকার চীনের ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (SEZ) বিনিয়োগের পথ আরও সুগম করতে চায়। প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং অবকাঠামো খাতে চীনের বিশাল বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের কৌশলগত ভূমিকা

অর্থনৈতিক ইস্যুর বাইরে এদিনের বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল রোহিঙ্গা সংকট। সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও আরাকান আর্মির ওপর চীনের ব্যাপক ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব রয়েছে। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চীনের সক্রিয় মধ্যস্থতা অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে চীন সরকারকে এই সংকট সমাধানে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ সফরের সাফল্য ও চীনের অভিনন্দন

জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সফল পদচারণা আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। বৈঠকের শুরুতেই চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফল অংশগ্রহণ এবং নিউইয়র্কে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন করায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রচেষ্টা এবং মেগা প্রকল্পগুলোতে চীনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের আমলে বেইজিং ও ঢাকার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার কেবল পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নির্ভর না করে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব’ নীতির ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি (Balanced Foreign Policy) গ্রহণ করেছে, চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাথে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠক তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ। দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন (Three-R Strategy) এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে এই মুহূর্তে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। চীনের মতো অর্থনৈতিক পরাশক্তিকে পাশে পেলে দেশের মেগা অবকাঠামো এবং শিল্প খাতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। একই সাথে, মিয়ানমার ইস্যুতে চীনের ইতিবাচক মনোভাব আদায় করতে পারলে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটেরও একটি সম্মানজনক সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে, যা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।