০২:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান এবং হরমুজ প্রণালি সংকট: বিশ্ববাজারে আবারও লাফিয়ে বাড়ল তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ও অর্থনীতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার পর বিশ্ববাজারে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দামের ওপর। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

একনজরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের নতুন দাম:

তেলের ধরনদাম বৃদ্ধির পরিমাণবর্তমান মূল্য (ব্যারেলপ্রতি)
ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude)১.৮২ ডলার (১.৭৪% বৃদ্ধি)১০৬.১৪ ডলার
ডব্লিউটিআই ক্রুড (WTI Crude)১.১৪ ডলার (১.২৩% বৃদ্ধি)৯৩.৫৫ ডলার

সংকটের কেন্দ্রবিন্দু ও ট্রাম্পের অনড় অবস্থান

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি এই প্রণালিটি পুনরায় চালু করা এবং দ্বিপক্ষীয় সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণেই তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন, যার ফলস্বরূপ দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বাজারে চরম অস্থিরতা ও দামের ওঠানামা

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্যাপক উত্থান-পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একলাফে ৩.৪ শতাংশ বেড়ে ১০৬.৬০ ডলারে উঠেছিল; এমনকি দিনের একপর্যায়ে তা ১০৮ ডলারের কাছাকাছিও পৌঁছেছিল। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার দাম কিছুটা কমে ১০৫.৭ ডলারে নেমে আসে। কিন্তু ট্রাম্পের সর্বশেষ প্রত্যাখ্যানের খবর প্রকাশের পর সোমবার তা আবারও বেড়ে যায়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে হরমুজ প্রণালির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সামান্যতম অনিশ্চয়তা বা সামরিক উত্তেজনা দেখা দিলে বিশ্বব্যাপী তেলের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই স্নায়ুযুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির প্রভাব শুধু এই দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকেই চাপে ফেলছে। জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া মানে হলো বিশ্বব্যাপী পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়া। এর ফলে আমদানিনির্ভর ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই সংঘাতের দ্রুত একটি কূটনৈতিক সমাধান হওয়া অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি আরও বাড়বে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
AKM GULAM SARWAR

AKM GULAM SARWAR

"আমি এই নিউজ পোর্টালের স্বত্বাধিকারী ও সম্পাদক এবং একজন নিবেদিত সমাজকর্মী। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল আই টিভিতে 'সত্যের সন্ধানে' ও 'জনমত' নামের দুটি অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার বাইরে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ রয়েছে। লেখালেখির পাশাপাশি আমি একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার, স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং প্রযোজক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।"
Update Time : ১১:৩৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭৯০ Time View

ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান এবং হরমুজ প্রণালি সংকট: বিশ্ববাজারে আবারও লাফিয়ে বাড়ল তেলের দাম

Update Time : ১১:৩৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ও অর্থনীতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার পর বিশ্ববাজারে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দামের ওপর। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

একনজরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের নতুন দাম:

তেলের ধরনদাম বৃদ্ধির পরিমাণবর্তমান মূল্য (ব্যারেলপ্রতি)
ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude)১.৮২ ডলার (১.৭৪% বৃদ্ধি)১০৬.১৪ ডলার
ডব্লিউটিআই ক্রুড (WTI Crude)১.১৪ ডলার (১.২৩% বৃদ্ধি)৯৩.৫৫ ডলার

সংকটের কেন্দ্রবিন্দু ও ট্রাম্পের অনড় অবস্থান

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি এই প্রণালিটি পুনরায় চালু করা এবং দ্বিপক্ষীয় সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণেই তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন, যার ফলস্বরূপ দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বাজারে চরম অস্থিরতা ও দামের ওঠানামা

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্যাপক উত্থান-পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একলাফে ৩.৪ শতাংশ বেড়ে ১০৬.৬০ ডলারে উঠেছিল; এমনকি দিনের একপর্যায়ে তা ১০৮ ডলারের কাছাকাছিও পৌঁছেছিল। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার দাম কিছুটা কমে ১০৫.৭ ডলারে নেমে আসে। কিন্তু ট্রাম্পের সর্বশেষ প্রত্যাখ্যানের খবর প্রকাশের পর সোমবার তা আবারও বেড়ে যায়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে হরমুজ প্রণালির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সামান্যতম অনিশ্চয়তা বা সামরিক উত্তেজনা দেখা দিলে বিশ্বব্যাপী তেলের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই স্নায়ুযুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির প্রভাব শুধু এই দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকেই চাপে ফেলছে। জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া মানে হলো বিশ্বব্যাপী পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়া। এর ফলে আমদানিনির্ভর ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই সংঘাতের দ্রুত একটি কূটনৈতিক সমাধান হওয়া অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি আরও বাড়বে।