৮ মাসের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় আস্থাশীল জাপান, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চান তারা’
ছবি: সংগৃহীত
বেঙ্গল আই ডেস্ক | আন্তর্জাতিক ও অর্থনীতি
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিগত ৮ মাসের শাসনামলে দেশে যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। আর এই স্থিতিশীল পরিবেশের কারণেই জাপানি কোম্পানিগুলো এখন বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী।
জাপান সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাতে এই আগ্রহের কথা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমের কাছে বৈঠকের এই ইতিবাচক বার্তাটি নিশ্চিত করেন।
একনজরে প্রধানমন্ত্রী-তারো আসো বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু:
| বিবরণ | তথ্য |
| বৈঠকের সময় | ২৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩টা (জাপানের স্থানীয় সময়) |
| প্রধান আলোচক (জাপান) | তারো আসো (সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৈত্রী লীগের সভাপতি) |
| প্রধান আলোচক (বাংলাদেশ) | প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান |
| জাপানের মূল পর্যবেক্ষণ | বিএনপি সরকারের ৮ মাসে সৃষ্ট ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা’ ও তরুণ জনশক্তি |
| জাপানের আগ্রহ | বাংলাদেশে মেগা বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তর |
| বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি | বিনিয়োগের বাধা কাটাতে আইনি সংস্কার ও শিক্ষায় উন্নয়ন |
আস্থা ফেরাচ্ছে ৮ মাসের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
বৈঠকে জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারো আসো বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশই তরুণ, যা যেকোনো দেশের অর্থনীতির জন্য বড় শক্তি। পাশাপাশি বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৮ মাসে দেশে যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা বিদেশিদের জন্য বিনিয়োগের এক দারুণ অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই পরিবর্তিত ও আস্থাশীল পরিস্থিতিতে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে মুখিয়ে আছে বলে জানান তিনি।
আইনি সংস্কার ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের প্রতিশ্রুতি
জাপানের এই বিপুল আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শতভাগ ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে তাঁর সরকার এরই মধ্যে বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে কিছু কাঠামোগত ও আইনি পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। একইসঙ্গে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা ও কারিগরি খাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA) স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে তারো আসোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
পুরোনো বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ
কূটনৈতিক আলোচনার ফাঁকে উঠে আসে দুই নেতার পুরোনো বন্ধুত্বের কথাও। ২০০৬ সালে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জাপান সফরের সময় তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতি স্মরণ করেন জাপানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, জাপানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসোর ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের সম্পর্ককে সুদৃঢ় করেছে।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। জাপানের পক্ষে এলডিপির চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা এবং পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।
বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)
যেকোনো দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) আসার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো সেই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ক্রান্তিকালের পর বর্তমান বিএনপি সরকার মাত্র ৮ মাসের মধ্যে সেই কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা প্রমাণ করতে পেরেছে, জাপানের মতো একটি অর্থনৈতিক পরাশক্তির সাবেক সরকারপ্রধানের মুখ থেকে এই স্বীকৃতি আদায় নিঃসন্দেহে একটি বড় কূটনৈতিক বিজয়। জাপান শুধু আশ্বাস দেয় না, তারা প্রযুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব নিয়ে আসে। এখন বাংলাদেশ সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ হবে প্রতিশ্রুত সেই ‘আইনি সংস্কার’গুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য লাল ফিতার দৌরাত্ম্য (Red Tape) চিরতরে দূর করা।

















