০২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘এনসিপি পুরোপুরি জামায়াতের পেটে ঢুকে গেছে’: নারী নেত্রীদের বাদ দেওয়ায় আবু হানিফের মন্তব্য

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির বিরোধিতা করার জেরে নীতি-নির্ধারণী ফোরাম থেকে দুই নারী নেত্রীকে বাদ দেওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি)-র কড়া সমালোচনা করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি মন্তব্য করেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এনসিপি প্রমাণ করেছে তারা এখন পুরোপুরি ‘জামায়াতের পেটে ঢুকে গেছে’।

একনজরে আবু হানিফের অভিযোগের সারসংক্ষেপ:

বিষয়বিবরণ
মন্তব্যকারীআবু হানিফ (মুখপাত্র, গণঅধিকার পরিষদ)
অভিযুক্ত দলএনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি)
বাদ পড়া দুই নেত্রীসামান্তা শারমিন ও নাহিদা সারওয়ার নিভা
বাদ পড়ার কারণ (দাবিকৃত)জামায়াতের সাথে জোট ও রাজনৈতিক ঐক্যের বিরোধিতা করা
মন্তব্যের মাধ্যম ও তারিখফেসবুক পোস্ট (২৩ অক্টোবর ২০২৬)

ফেসবুক পোস্টে যা বলেছেন আবু হানিফ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে আবু হানিফ সরাসরি এনসিপির রাজনৈতিক স্বকীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, “এনসিপি গঠনের পর থেকেই মানুষের একটা ধারণা ছিল যে এটি জামায়াত নিয়ন্ত্রিত একটি সংগঠন। নির্বাচনের সময় মানুষের সেই ধারণা বাস্তবে রূপ নেয়। শুধু জামায়াতের বিরোধিতা করার কারণে আজকে এনসিপির দুই নারী নেত্রীকে নীতি-নির্ধারণী ফোরাম থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হলো।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাদ পড়া নেত্রীদের ভূমিকা

দল থেকে বাদ পড়া দুই নারী নেত্রী সামান্তা শারমিন ও নাহিদা সারওয়ার নিভার রাজনৈতিক অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবু হানিফ জানান, বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং বিশেষ করে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এই দুই নারীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তারা রাজপথে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু এনসিপি যখন জামায়াতের সাথে জোট করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সদস্য হিসেবে এই দুজনই সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করেছিলেন। আর সেই বিরোধিতার মাশুল হিসেবেই তাদের দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের শঙ্কা

এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে গণঅধিকার পরিষদের এই মুখপাত্র বলেন, নীতি-নির্ধারণী ফোরাম থেকে এই দুই নেত্রীকে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে এখন দলে জামায়াতের বিরোধিতা করার মতো আর কেউ রইল না। এর ফলে এনসিপি এখন থেকে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে আগের চেয়ে আরও বেশি ও বাধাহীন ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে তিনি দাবি করেন।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি আত্মপ্রকাশের পর থেকেই তরুণ প্রজন্ম ও সুশীল সমাজের একটি অংশের সমর্থন পেয়েছিল। তবে জামায়াতে ইসলামীর সাথে তাদের রাজনৈতিক সখ্যতা নিয়ে শুরু থেকেই গুঞ্জন ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা দুই নেত্রীকে কেবল জোটের বিরোধিতা করার কারণে নীতি-নির্ধারণী ফোরাম থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা এনসিপির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও স্বাধীন রাজনৈতিক স্বকীয়তাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলবে। রাজনীতিতে জোট বা সমমনা দলের সাথে ঐক্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, ভিন্নমত দমনের এই সংস্কৃতি তরুণ ভোটারদের কাছে দলটির গ্রহণযোগ্যতা কমাতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৮:১৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
২৬ Time View

‘এনসিপি পুরোপুরি জামায়াতের পেটে ঢুকে গেছে’: নারী নেত্রীদের বাদ দেওয়ায় আবু হানিফের মন্তব্য

Update Time : ০৮:১৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির বিরোধিতা করার জেরে নীতি-নির্ধারণী ফোরাম থেকে দুই নারী নেত্রীকে বাদ দেওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি)-র কড়া সমালোচনা করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি মন্তব্য করেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এনসিপি প্রমাণ করেছে তারা এখন পুরোপুরি ‘জামায়াতের পেটে ঢুকে গেছে’।

একনজরে আবু হানিফের অভিযোগের সারসংক্ষেপ:

বিষয়বিবরণ
মন্তব্যকারীআবু হানিফ (মুখপাত্র, গণঅধিকার পরিষদ)
অভিযুক্ত দলএনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি)
বাদ পড়া দুই নেত্রীসামান্তা শারমিন ও নাহিদা সারওয়ার নিভা
বাদ পড়ার কারণ (দাবিকৃত)জামায়াতের সাথে জোট ও রাজনৈতিক ঐক্যের বিরোধিতা করা
মন্তব্যের মাধ্যম ও তারিখফেসবুক পোস্ট (২৩ অক্টোবর ২০২৬)

ফেসবুক পোস্টে যা বলেছেন আবু হানিফ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে আবু হানিফ সরাসরি এনসিপির রাজনৈতিক স্বকীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, “এনসিপি গঠনের পর থেকেই মানুষের একটা ধারণা ছিল যে এটি জামায়াত নিয়ন্ত্রিত একটি সংগঠন। নির্বাচনের সময় মানুষের সেই ধারণা বাস্তবে রূপ নেয়। শুধু জামায়াতের বিরোধিতা করার কারণে আজকে এনসিপির দুই নারী নেত্রীকে নীতি-নির্ধারণী ফোরাম থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হলো।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাদ পড়া নেত্রীদের ভূমিকা

দল থেকে বাদ পড়া দুই নারী নেত্রী সামান্তা শারমিন ও নাহিদা সারওয়ার নিভার রাজনৈতিক অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবু হানিফ জানান, বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং বিশেষ করে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এই দুই নারীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তারা রাজপথে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু এনসিপি যখন জামায়াতের সাথে জোট করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সদস্য হিসেবে এই দুজনই সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা করেছিলেন। আর সেই বিরোধিতার মাশুল হিসেবেই তাদের দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের শঙ্কা

এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে গণঅধিকার পরিষদের এই মুখপাত্র বলেন, নীতি-নির্ধারণী ফোরাম থেকে এই দুই নেত্রীকে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে এখন দলে জামায়াতের বিরোধিতা করার মতো আর কেউ রইল না। এর ফলে এনসিপি এখন থেকে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে আগের চেয়ে আরও বেশি ও বাধাহীন ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে তিনি দাবি করেন।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি আত্মপ্রকাশের পর থেকেই তরুণ প্রজন্ম ও সুশীল সমাজের একটি অংশের সমর্থন পেয়েছিল। তবে জামায়াতে ইসলামীর সাথে তাদের রাজনৈতিক সখ্যতা নিয়ে শুরু থেকেই গুঞ্জন ছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা দুই নেত্রীকে কেবল জোটের বিরোধিতা করার কারণে নীতি-নির্ধারণী ফোরাম থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা এনসিপির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও স্বাধীন রাজনৈতিক স্বকীয়তাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলবে। রাজনীতিতে জোট বা সমমনা দলের সাথে ঐক্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, ভিন্নমত দমনের এই সংস্কৃতি তরুণ ভোটারদের কাছে দলটির গ্রহণযোগ্যতা কমাতে পারে।