০২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে ৬ হাজার ৬০৮ কোটি টাকার দুই মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসন

বাংলাদেশ পুলিশের আভিযানিক সক্ষমতা ও গতিশীলতা বহুগুণ বাড়াতে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার দুটি মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ২৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই মেগা প্রকল্প দুটির চূড়ান্ত অনুমোদন আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

একনজরে পুলিশের মেগা প্রকল্প দুটির রূপরেখা:

বিবরণতথ্য
মোট বাজেট৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা (সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়ন)
মোট যানবাহন৫ হাজার ৮৩০টি
প্রকল্প-১ (অপারেশনাল যানবাহন)বাজেট: ৪,৩২৮ কোটি টাকা (যানবাহন: ৪,৮২৯টি)
প্রকল্প-২ (বিশেষায়িত যানবাহন)বাজেট: ২,২৮০.১৪ কোটি টাকা (যানবাহন: ১,০০১টি)
বাস্তবায়নের মেয়াদঅক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত

যানবাহন সংকট ও প্রকল্পের প্রেক্ষাপট

দীর্ঘদিন ধরেই মাঠপর্যায়ে পুলিশের যানবাহনের তীব্র সংকট রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানায় বর্তমানে মাত্র ১ হাজার ২৩৭টি যানবাহন রয়েছে; অর্থাৎ প্রতিটি থানায় গড়ে দুটিরও কম গাড়ি বরাদ্দ আছে। এর মধ্যে বিদ্যমান বহরের প্রায় ৬৪ শতাংশ গাড়ির বয়স এক দশকেরও বেশি। এই পুরোনো ও অপ্রতুল যানবাহন দিয়ে নিয়মিত টহল, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুলিশ পাঠানো দারুণ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রস্তাবিত এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুলিশের সেই ঘাটতি পুরোপুরি দূর হবে।

বিশেষায়িত যানবাহন ও নৌ-টহলে আধুনিকায়ন

প্রস্তাবিত বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের আওতায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী এসইউভি, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার এবং অপরাধস্থল (Crime Scene) পরিদর্শনের জন্য অত্যাধুনিক ভ্যান কেনা হবে। এছাড়া দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম জোরদার, নৌ-টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকার মতো জলযানও কেনা হবে।

বিদেশি সফর বাতিল ও দেশীয় প্রশিক্ষণে জোর

যানবাহন কেনার পাশাপাশি এগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পুলিশ সদস্যদের দেশীয় প্রশিক্ষণের ব্যাপক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অপারেশনাল প্রকল্পের অধীনে এক হাজার জনকে এবং বিশেষায়িত প্রকল্পের অধীনে আরও ৯৬০ জনকে ড্রাইভিং ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পর্যালোচনা শেষে সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এই প্রকল্প থেকে ‘বিদেশি প্রশিক্ষণ’ বা বিদেশ সফরের বিষয়টি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল শক্তি হলো তাদের ‘কুইক রেসপন্স টাইম’ বা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সক্ষমতা। কিন্তু ১০ বছরের পুরোনো ও জরাজীর্ণ গাড়ি দিয়ে সেই গতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই ৫,৮৩০টি নতুন যান পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে প্রকল্প থেকে অপ্রয়োজনীয় ‘বিদেশ সফর’ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করে যে, সরকার এখন মেগা প্রকল্পগুলোতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে অত্যন্ত কঠোর। একনেকে প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেলে এটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৮:০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
৩৮ Time View

পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে ৬ হাজার ৬০৮ কোটি টাকার দুই মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব

Update Time : ০৮:০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসন

বাংলাদেশ পুলিশের আভিযানিক সক্ষমতা ও গতিশীলতা বহুগুণ বাড়াতে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার দুটি মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ২৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই মেগা প্রকল্প দুটির চূড়ান্ত অনুমোদন আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

একনজরে পুলিশের মেগা প্রকল্প দুটির রূপরেখা:

বিবরণতথ্য
মোট বাজেট৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা (সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়ন)
মোট যানবাহন৫ হাজার ৮৩০টি
প্রকল্প-১ (অপারেশনাল যানবাহন)বাজেট: ৪,৩২৮ কোটি টাকা (যানবাহন: ৪,৮২৯টি)
প্রকল্প-২ (বিশেষায়িত যানবাহন)বাজেট: ২,২৮০.১৪ কোটি টাকা (যানবাহন: ১,০০১টি)
বাস্তবায়নের মেয়াদঅক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত

যানবাহন সংকট ও প্রকল্পের প্রেক্ষাপট

দীর্ঘদিন ধরেই মাঠপর্যায়ে পুলিশের যানবাহনের তীব্র সংকট রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানায় বর্তমানে মাত্র ১ হাজার ২৩৭টি যানবাহন রয়েছে; অর্থাৎ প্রতিটি থানায় গড়ে দুটিরও কম গাড়ি বরাদ্দ আছে। এর মধ্যে বিদ্যমান বহরের প্রায় ৬৪ শতাংশ গাড়ির বয়স এক দশকেরও বেশি। এই পুরোনো ও অপ্রতুল যানবাহন দিয়ে নিয়মিত টহল, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুলিশ পাঠানো দারুণ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রস্তাবিত এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুলিশের সেই ঘাটতি পুরোপুরি দূর হবে।

বিশেষায়িত যানবাহন ও নৌ-টহলে আধুনিকায়ন

প্রস্তাবিত বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের আওতায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী এসইউভি, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার এবং অপরাধস্থল (Crime Scene) পরিদর্শনের জন্য অত্যাধুনিক ভ্যান কেনা হবে। এছাড়া দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম জোরদার, নৌ-টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকার মতো জলযানও কেনা হবে।

বিদেশি সফর বাতিল ও দেশীয় প্রশিক্ষণে জোর

যানবাহন কেনার পাশাপাশি এগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পুলিশ সদস্যদের দেশীয় প্রশিক্ষণের ব্যাপক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অপারেশনাল প্রকল্পের অধীনে এক হাজার জনকে এবং বিশেষায়িত প্রকল্পের অধীনে আরও ৯৬০ জনকে ড্রাইভিং ও মেকানিক্স প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পর্যালোচনা শেষে সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এই প্রকল্প থেকে ‘বিদেশি প্রশিক্ষণ’ বা বিদেশ সফরের বিষয়টি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মূল শক্তি হলো তাদের ‘কুইক রেসপন্স টাইম’ বা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সক্ষমতা। কিন্তু ১০ বছরের পুরোনো ও জরাজীর্ণ গাড়ি দিয়ে সেই গতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই ৫,৮৩০টি নতুন যান পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে প্রকল্প থেকে অপ্রয়োজনীয় ‘বিদেশ সফর’ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করে যে, সরকার এখন মেগা প্রকল্পগুলোতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে অত্যন্ত কঠোর। একনেকে প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেলে এটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।