০২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লগি-বৈঠা আন্দোলনের দুই দশক: ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে জামায়াতের কর্মসূচি

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় সংঘটিত আলোচিত ‘লগি-বৈঠা’ আন্দোলনের দুই দশক পূর্তি হতে চলেছে। ওই দিন সংঘটিত ব্যাপক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে দুই দিনব্যাপী রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

একনজরে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি ও দাবি:

বিবরণতথ্য
মূল দাবি২৮ অক্টোবরের ‘লগি-বৈঠা’ তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের বিচার
কর্মসূচির মেয়াদ২ দিন (২৭ ও ২৮ অক্টোবর ২০২৬)
২৭ অক্টোবরের কর্মসূচিঢাকা মহানগরীতে বিশেষ আলোচনা সভা
২৮ অক্টোবরের কর্মসূচিসারা দেশে বিক্ষোভ, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান
ঘোষণা প্রদানকারীমিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা আন্দোলন

‘দুই দশকের ফ্যাসিবাদের বিষবৃক্ষ রোপিত হয়েছিল সেদিন’

বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে লগি-বৈঠার নজিরবিহীন তাণ্ডব ও নৃশংসতা ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ও কালো অধ্যায়। সেদিনের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড ও নৈরাজ্যের মধ্য দিয়েই দেশে দীর্ঘ দুই দশকের ফ্যাসিবাদ, গণতন্ত্র হত্যা ও নাগরিক অধিকার হরণের বিষবৃক্ষ রোপিত হয়েছিল।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঐতিহাসিক এই ঘটনার দুই দশক পূর্তি হতে চললেও আজও হত্যাকারীদের বিচার হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি। ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতাসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

ফিরে দেখা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিন ছিল। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিতে না পারেন, সেজন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলে, যা ‘লগি-বৈঠা’ আন্দোলন নামে পরিচিতি পায়।

ওই দিন পল্টন-বায়তুল মোকাররম এলাকায় জামায়াতে ইসলামী এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে অস্ত্র তুলে গুলি ও লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যার রোমহর্ষক ঘটনা পুরো দেশে গভীর আলোড়ন তৈরি করেছিল। টানা তিন দিনের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রাজপথ কার্যত আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায় এবং পরবর্তীতে দেশে ওয়ান-ইলেভেনের (১/১১) পটপরিবর্তন ঘটে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

লগি-বৈঠা আন্দোলনের দুই দশক পূর্তিতে জামায়াতে ইসলামীর এই কর্মসূচি নিছক কোনো স্মরণসভা নয়, বরং এটি পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের আইনি ও রাজনৈতিক বিচার চাওয়ার একটি সুকৌশলী পদক্ষেপ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যখন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে চরম কোণঠাসা, ঠিক তখনই ২০০৬ সালের এই ইস্যুকে সামনে এনে জামায়াত মূলত প্রমাণ করতে চাইছে যে, গত দুই দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ফ্যাসিবাদের মূল উৎপাটন করতে হলে ২৮ অক্টোবরের ঘটনারও বিচার হওয়া জরুরি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াত তাদের কর্মী-সমর্থকদের পুনরায় চাঙ্গা করার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন বা বর্তমান সরকারের ওপর একধরনের নৈতিক চাপও সৃষ্টি করছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

About Author Information
Update Time : ০৫:৪৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১৩৯ Time View

লগি-বৈঠা আন্দোলনের দুই দশক: ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে জামায়াতের কর্মসূচি

Update Time : ০৫:৪৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

বেঙ্গল আই ডেস্ক | জাতীয় ও রাজনীতি

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় সংঘটিত আলোচিত ‘লগি-বৈঠা’ আন্দোলনের দুই দশক পূর্তি হতে চলেছে। ওই দিন সংঘটিত ব্যাপক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে দুই দিনব্যাপী রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

একনজরে জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি ও দাবি:

বিবরণতথ্য
মূল দাবি২৮ অক্টোবরের ‘লগি-বৈঠা’ তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের বিচার
কর্মসূচির মেয়াদ২ দিন (২৭ ও ২৮ অক্টোবর ২০২৬)
২৭ অক্টোবরের কর্মসূচিঢাকা মহানগরীতে বিশেষ আলোচনা সভা
২৮ অক্টোবরের কর্মসূচিসারা দেশে বিক্ষোভ, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান
ঘোষণা প্রদানকারীমিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা আন্দোলন

‘দুই দশকের ফ্যাসিবাদের বিষবৃক্ষ রোপিত হয়েছিল সেদিন’

বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে লগি-বৈঠার নজিরবিহীন তাণ্ডব ও নৃশংসতা ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ও কালো অধ্যায়। সেদিনের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড ও নৈরাজ্যের মধ্য দিয়েই দেশে দীর্ঘ দুই দশকের ফ্যাসিবাদ, গণতন্ত্র হত্যা ও নাগরিক অধিকার হরণের বিষবৃক্ষ রোপিত হয়েছিল।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঐতিহাসিক এই ঘটনার দুই দশক পূর্তি হতে চললেও আজও হত্যাকারীদের বিচার হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি। ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতাসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

ফিরে দেখা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিন ছিল। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিতে না পারেন, সেজন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলে, যা ‘লগি-বৈঠা’ আন্দোলন নামে পরিচিতি পায়।

ওই দিন পল্টন-বায়তুল মোকাররম এলাকায় জামায়াতে ইসলামী এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে অস্ত্র তুলে গুলি ও লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যার রোমহর্ষক ঘটনা পুরো দেশে গভীর আলোড়ন তৈরি করেছিল। টানা তিন দিনের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রাজপথ কার্যত আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায় এবং পরবর্তীতে দেশে ওয়ান-ইলেভেনের (১/১১) পটপরিবর্তন ঘটে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার (Bengal Eye Analysis)

লগি-বৈঠা আন্দোলনের দুই দশক পূর্তিতে জামায়াতে ইসলামীর এই কর্মসূচি নিছক কোনো স্মরণসভা নয়, বরং এটি পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের আইনি ও রাজনৈতিক বিচার চাওয়ার একটি সুকৌশলী পদক্ষেপ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যখন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে চরম কোণঠাসা, ঠিক তখনই ২০০৬ সালের এই ইস্যুকে সামনে এনে জামায়াত মূলত প্রমাণ করতে চাইছে যে, গত দুই দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ফ্যাসিবাদের মূল উৎপাটন করতে হলে ২৮ অক্টোবরের ঘটনারও বিচার হওয়া জরুরি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াত তাদের কর্মী-সমর্থকদের পুনরায় চাঙ্গা করার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন বা বর্তমান সরকারের ওপর একধরনের নৈতিক চাপও সৃষ্টি করছে।